রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘স্বাস্থ্যের জানালা আমাদের চোখ’ 

আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ০৯:৩৪ পিএম

চোখকে মানবদেহের সুস্বাস্থ্যের জানালা উল্লেখ করে চোখের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, শরীরের কি কি রোগ চোখের ক্ষতি করে সে বিষয়ে মানুষ সচেতন হলে একদিকে যেমন চোখের সমস্যা নির্ণয় ও চিকিৎসা করা যাবে, তেমনি নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য রোগ সম্পর্কেও আগেভাগেই জানা যাবে। 

রবিবার (১২ মে) বিএসএমএমইউতে ‘স্বাস্থ্যের জানালা আমাদের চোখ’ বিষয়ক মাসিক সেন্ট্রাল সেমিনারে চিকিৎসকরা এই পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লক অডিটোরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বিশিষ্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। 

সেমিনারে বলা হয়, চোখের পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহে অন্যান্য রোগ রয়েছে কিনা তার পূর্বাভাস জ্ঞাত হওয়াসহ শরীরের স্বাস্থ্যের অবস্থা জানার বিষয়ে চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করতেই এই সেমিনারের আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক তার বক্তব্যে চক্ষুরোগের বিভিন্ন পর্যায় ও লক্ষণগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করেন এবং এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ও উৎসাহিত করেন। 

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, চোখের নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে চোখের সমস্যা নির্ণয় ও রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব। একই সাথে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গের রোগের কারণে চোখের যে ক্ষয়ক্ষতি হয় তা নির্ণয় করাসহ এর চিকিৎসা করাও সম্ভব হবে। এ বিষয়ে চিকিৎসক ও রেসিডেন্টদের আরো সচেতন হতে হবে। 

বক্ষ্যব্যাধি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সম্প্রীতি ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সেন্ট্রাল সেমিনার সাব-কমিটির সভাপতি ও ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ। 

সেমিনারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চক্ষু বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহ-নূর হোসেন, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন খান ও রিউমাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেজর (অব:) সৈয়দ জামিল আবদাল। 

সেমিনারে সম্মানিত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান খানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা, শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। 

ডা. শাহ-নূর হোসেন তার প্রবন্ধে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে নার্ভের পাশাপাশি চোখের কি ধরণের পরিবর্তন হয় সে বিষয়ে আলোকপাত করে নিয়মিত চক্ষুর পরীক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডা. আবেদ হোসেন খান তার প্রবন্ধে বলেন, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, যেমন- যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ইত্যাদি রোগের লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রথমেই নির্ণয় করা যেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার, এ্যানিমিয়া, লিউকেমিয়া, জন্মগত ক্রটি, বিশেষ ক্ষেত্রে শরীরে বিষক্রিয়ার ধারণাও চোখের মাধ্যমে পাওয়া যায়। 

অধ্যাপক ডা. মেজর (অব:) সৈয়দ জামিল আবদাল তার প্রবন্ধে বিভিন্ন ধরণের বাতজ্বর ও বাতব্যথা চোখকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত