বাগাতিপাড়ায় তিন ভাগে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৬:২৩ এএম

দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগে সৃষ্ট কোন্দল শেষ না হতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও দলের মধ্যে বেড়েছে বিভক্তি। নির্বাচন ঘিরে ত্রিমুখী অবস্থানে রয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এতে করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাধারণ কর্মীরা যেমন বিভ্রান্তিতে পড়ছেন সেই সঙ্গে আগামীতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে এমন বিভক্তি থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা দ্বিমুখী অবস্থান নেন। নির্বাচনে দলের একটি পক্ষ সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল এবং অন্যপক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল কামাল আজাদের পক্ষে কাজ করেন। এ অবস্থায় কয়েক মাস অতিবাহিত হতে না হতেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে নিয়ে এবার তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে দলটি। দলীয় নেতাকর্মীরা নিজস্ব বলয়ে আলাদা আলাদা সমর্থক গোষ্ঠী নিয়ে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। এতে করে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব যেমন বাড়ছে তেমনি দলীয় কোন্দলের বলি হওয়ার ভয়ে অনেক নেতাকর্মীই হয়ে পড়েছেন চুপচাপ।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের ২৬ জুন বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে গঠন করা আহ্বায়ক কমিটির প্রায় দুই বছর হয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি দলটি। দুই বছরে কমিটিতে থাকা নেতাকর্মীদের সবাইকে এখনো একই রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক প্রত্যেকে তৈরি করেছেন নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠী। কমিটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই নিজস্ব বলয়ের মধ্যে তারা নিজ নিজ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদাভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে, আসছে ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রাথী পাঁচজন। এর মধ্যে একজন স্বতন্ত্র ও একজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত। বাকি তিনজনই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা।

এবার বাগাতিপাড়ায় আনারস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ। তিনি সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম বকুলের বড় ভাই। সংসদ নির্বাচনে তিনি শহিদুল ইসলাম বকুলের পক্ষে কাজ করেন। দোয়াত-কলম প্রতীকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবুল হোসেন। দীর্ঘদিনের দায়িত্বে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস এ নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ করছেন। এ ছাড়া শালিক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসলাম উদ্দিন। তাদের প্রত্যেকের পক্ষে আলাদা সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে, নেমেছে নির্বাচনী প্রচারণায়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান জানান, ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হওয়ার পর থেকে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে আছেন। বাকিরা যার যার আলাদা সমর্থকদের নিয়ে আছেন। গ্রুপিংয়ের কারণে দল সাংগঠনিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম ঠা-ু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলীয়ভাবে যেহেতু উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, তাই যে যার মতো নির্বাচন করতে পারেন। আর রাজনীতিতে গ্রুপিং থাকবেই। কিন্তু প্রকাশ্যে এত বিভক্তি কোথাও নেই। এটি দলের জন্য অবশ্যই ক্ষতিকর।’ তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করছেন বলে স্বীকার করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত