রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঝুঁকিপূর্ণ সৈয়দপুর বিমানবন্দর

২০ মিনিটের কাজ শেষ হলো না ৪৮ ঘণ্টায়ও  

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম

দীর্ঘদিন ধরেই সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নানা সমস্যা চলছে। ২০ বছরের ক্যাবলগুলো প্রায় অকেজো। প্রায়ই বিমানবন্দরের চারপাশে বিদ্যুৎ থাকে না। অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে বিমানবন্দরের কার্যক্রম। তার মধ্যেই সরকারি-বেসরকারি ফ্লাইট ওঠানামা করছে। সর্বশেষ গত রবিবার হঠাৎ করেই বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং আশপাশের আলোকসজ্জা নষ্ট হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় ফ্লাইট চলাচল।

মাটির নিচে ক্যাবল নষ্ট হওয়ার কারণে লাইট জ্বলে না। ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল করতে পারেনি। দ্রুত সময়ে লাইন মেরামত না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ২০ মিনিটের কাজ ৪৮ ঘণ্টায়ও কেন শেষ হলো না, তার রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্যাবল লাইন মেরামত করতে কেন এত দেরি হচ্ছে তার কৈফিয়ত চাওয়া হবে। যেসব ক্যাবল নষ্ট হয়েছে তা ঠিক করতে বেশি সময় লাগার কথা না। বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কারও দায়িত্বে অবহেলা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তকে জানায়, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে অ্যাভিয়েশন সেক্টরে শুরু হয় তোলপাড়। বেবিচক কর্মকর্তারা এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকের কাছে জানতে চান কী কারণে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হলো। মাটির নিচে ক্যাবল নষ্ট হওয়ায় ফ্লাইট উড্ডয়ন ও অবতরণ করছে না বলে জানানো হয়। প্রায় ২০ বছর আগে বিমানবন্দরের চারপাশে ৬০টি পয়েন্টে ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩০টিই অকেজো হয়ে পড়েছে। এতগুলো পয়েন্টের ক্যাবল নষ্ট হয়ে গেলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এমনকি বিষয়টি বেবিচকের সদর দপ্তরকেও অবহিত করা হয়নি। হঠাৎ করে দুদিন আগে বিমানবন্দরে নাইট ল্যান্ডিং সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকে। এতে করে বিমানবন্দরে দুই শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে বিমানবন্দরে রানওয়ের উন্নয়নের কাজ চলছিল। সে সময় অসতর্কতায় কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগ কাটা পড়েছে। প্রকৌশল বিভাগ বিষয়টি জানার পর থেকে সমস্যা খুঁজে দেখছে। রানওয়ের বাতিগুলো না জ্বলায় ভুতুরে পরিবেশ তৈরি হয় পুরো বিমানবন্দরে। নাইট ল্যান্ডিং সিস্টেম কাজ না করায় রবিবার সন্ধ্যার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের একটি করে ফ্লাইট যাত্রীসেবা দিতে পারেনি। ফলে বিমানবন্দরের লাউঞ্জে দুই শতাধিক যাত্রী আটকা পড়ে। রাতের সব ফ্লাইট বাতিল করে এয়ারলাইনসগুলো।

বেবিচকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৈয়দপুর বিমানবন্দরের কর্মরত লোকজন বেশ অলস। এতগুলা ক্যাবল নষ্ট অথচ তারা জানেই না। যেসব ক্যাবল নষ্ট হয়েছে সেগুলো মেরামত করতে বেশি সময় লাগার কথা না। ২০ মিনিটেই এগুলো মেরামত করার কথা। অথচ তারা শনাক্তই করতে রাত পার করে ফেলে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেও তারা তা সারাতে পারেনি। আজ (গতকাল) সকালে জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলমসহ দুজনকে সৈয়দপুর পাঠানো হয়েছে। তারা দুপুরের মধ্যে পয়েন্টগুলো শনাক্ত করে কিছু অংশের মেরামত করেছেন।’

এ ঘটনায় বেবিচক চেয়ারম্যান খুব ক্ষুব্ধ। বেশ ঝুঁকির মধ্যে আছে বিমানবন্দরটি। পুরো রহস্য উদঘাটন করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি বিমান সংস্থার একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রানওয়েতে আলো না থাকায় ফ্লাইট ওঠানামা করছে না। রবিবার সারা রাত ও আজ (গতকাল) দুপুর পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। কিছু অংশের লাইট মেরামত করা হলে কিছু ফ্লাইট চালু করা হয়। তবে সন্ধ্যার পর ফ্লাইট চালু হয়নি। রাতের ফ্লাইটগুলো বাতিল হয়েছে।’

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সুপ্লব কুমার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রানওয়েতে আলো না জ¦লার কারণে ফ্লাইট চলাচল করছে না। জরুরি ভিত্তিতে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট সরেজমিনে কাজ করছে। আজ (গতকাল) আংশিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। রবিবার বাতিল হওয়া তিনটি ফ্লাইটের স্থানীয় যাত্রীরা বাড়ি ফিরে যান এবং দূরবর্তী যাত্রীদের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছিল। রানওয়ের লাইট না জ্বলার কারণে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুরের তিনটি ফ্লাইট বাতিল করে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত