মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মিটার চুরি করে মোবাইল নম্বর লিখে যায় তারা

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৫৩ এএম

গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে বিদ্যুতের মিটার। চুরি যাওয়া মিটার বক্স বা বোর্ডে সচল একটি মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে যাচ্ছে চোররা। ওই নম্বরে ফোন করলে দাবি করা হয় চার হাজার টাকা। নগদ বা বিকাশ নম্বরে ওই টাকা পরিশোধ করলেই মিটারটি কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে চোর চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলে কোনো মিটারই বাড়িতে থাকবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে চোররা।

জানা যায়, গাইবান্ধা তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির অধীনে পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সেচপাম্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি হচ্ছে। একের পর এক মিটার ও তার চুরি করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে চক্রটি। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে মিটার উদ্ধার করছেন।

গত রবিবার ভোররাতে পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্ধা, ঘোড়াবান্ধা এবং পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট, গুয়ারবাগিচা ও চরেরহাট এলাকায় অন্তত ১০টি মিটার চুরির ঘটনা ঘটে।

মনোহরপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবান্ধা গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক শাহিন প্রধান জানান, গত শনিবার রাতে কাজ শেষ করে রাইস মিল বন্ধ করে বাড়িতে যান। পরদিন সকালে এসে দেখেন মেইন তার কাটা এবং মিটার নেই। মিটার বক্সের ভেতরে একটি কাগজে মোবাইল নম্বর লেখা। ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে চক্রটি মিটার ফেরত বাবদ ওই নম্বরের নগদ হিসাবে চার হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এ বিষয়ে থানা-পুলিশকে জানালে বাড়িতে কোনো মিটারই থাকবে না বলে হুমকি দেয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করে চার হাজার টাকা পাঠালে বাড়ির পাশে একটি জঙ্গলের মধ্যে মিটার রাখা আছে বলে জানানো হয়। এরপর মিটার আর চুরি হবে না বলে নিশ্চয়তা দেয় চক্রটি।

শাহিন প্রধান বলেন, ‘এ ঘটনায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসকে জানালে তারা থানায় অভিযোগ করতে বলে। নানা হয়রানির কারণে থানায় অভিযোগ করিনি।’ গুয়ারবাগিচা এলাকার ভুক্তভোগী শান্ত বলেন, ‘আমার রাইস মিলের মিটারটি চুরি হয়। পরে ওখানে একটি নম্বরে যোগাযোগ করে চার হাজার টাকা পাঠানোর পর মিটার ফেরত পাই। অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু টাকা ছাড়া তারা মিটার ফেরত দেয় না।’

ফকিরহাটের মুশফিকুর রহমান ও তালুক ঘোড়াবান্ধা এলাকার নান্নু মিয়া জানান, গভীর নলকূপের পাম্প থেকে রাতের অন্ধকারে মিটার নিয়ে যায়। পরে মোবাইল নম্বরে টাকা দিলে মিটার পাওয়া যায়।

তাদের অভিযোগ, এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এ যুগেও প্রকাশ্যে কৃষকদের বাধ্য করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। অথচ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কোনো মাথাব্যথা নেই। এলাকায় একের পর এক মিটার চুরির ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার নেই।

পলাশবাড়ী থানার ওসি আজমিরুজ্জামান বলেন, ‘মিটার চুরির ঘটনায় লিখিত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে টাকা দাবি করা মোবাইল নম্বরটি ট্র্যাকিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’

গাইবান্ধা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘মিটার চুরির ঘটনা সবাই জানেন। গ্রাহকরা সচেতন হলে মিটার চুরি কমে আসবে। মিটার চুরি রোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়েছি। চোরদের টাকা না দিয়ে নতুন মিটার নিলে চুরি অনেকটা কমে যাবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত