শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছাত্রী হেনস্তার অভিযোগে জাবিতে ১৬ বাস আটক

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:১৫ এএম

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসের চালকের সহকারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ওই কোম্পানির ১৬টি বাস আটক করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর সহপাঠীসহ একদল শিক্ষার্থী।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর হেনস্তার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস আটকানো শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাসগুলো আটকানো ছিল।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীসহ তার একাধিক সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে সাভার থেকে  বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছিলেন ওই শিক্ষার্থী। চালকের সহকারী ভাড়া চাইলে ১০০ টাকার একটি নোট দেন তিনি। সহকারীর কাছে খুচরা নেই বলে বাকি টাকা পরে ফেরত দেবেন বলে জানান। বাসটি সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় পৌঁছলে বাস থামিয়ে বাসের সহকারী যাত্রীদের নামতে বলেন। বাসের যাত্রী সবাই নেমে গেলে ভুক্তভোগী ছাত্রী ওই বাসের সহকারীর কাছে বাকি টাকা ফেরত চাইলে হেনস্তার শিকার হন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে একটি লিখিত অভিযাগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। তার অভিযোগ, বাস রেডিও কলোনির কাছাকাছি আসার পর সহকারী জানান বাস আর সামনে যাবে না। বাসের যাত্রীরা সবাই নেমে যায়। তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বললে চালকের সহকারী বলেন, ‘চলেন আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাই।’

ওই ছাত্রী বলেন, ‘বাসে তখন শুধুমাত্র চালক, সহকারী ও তাদের আরেক সহকর্মী ছিলেন। ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে বাজে ইঙ্গিত করেন সহকারী। এতে তিনি ভয় পেয়ে তাড়াহুড়ো করে নামার চেষ্টা করলে বাস ছেড়ে দেয়। তখন তিনি লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে হাঁটুতে প্রচ- ব্যাথা পান। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং সহপাঠীদের বললে তারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ওই ছাত্রীর বন্ধু প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, একজন ছাত্রীর সঙ্গে একটি খারাপ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবাদে তারা মৌমিতা পরিবহনের বাস আটকেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আশুলিয়া থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। ওই এলাকার  সব সিসিটিভি ফুটেজ থাকলেও সন্ধ্যা ৬টা ১০ থেকে ৬টা ১৮ পর্যন্ত সময়ের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

আটক এক বাসের চালক মোজাম্মল ও তার সহকারী বাবলু জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ছাত্ররা বাস আটক করতে শুরু করেন। কী কারণে আটকানো হয়েছে তা জানতেন না তারা। এ সময় ছাত্ররা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছেন বলে অভিযাগ করেন তারা।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মনির উদ্দিন শিকদার বলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলা করবেন। ঘটনা সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাসগুলো এখানেই থাকবে।

তবে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উত্তেজিত অবস্থায় ছাত্ররা এ কাজ করছে। পরে আমি উপস্থিত হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির বলেন, ‘আমরা বাস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি দ্রুত ওই বাসের সহকারী ও চালককে শনাক্ত করে আমাদের জানাতে। পুলিশও তাদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত