রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ জানাল ইরান

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৬:৪৮ পিএম

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদুল্লাহিয়ানসহ কয়েকজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা। গত রোববারের এ দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

এরই মধ্যে হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাঘেরি।

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির’ কারণে রাইসির হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছিল পাহাড়ে।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া হেলিকপ্টারটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেল ২১২ মডেলের। এ কারণে ইরান নাকি এই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘সাহায্য’ চেয়েছিল; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে তারা সাহায্য করতে পারছে না। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর সেটি খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল ইরান সরকার। সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক না থাকার পর তেহরান কীভাবে ওয়াশিংটনের কাছে সাহায্য চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত বলছেন না। তবে ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, এ ধরনের আবেদনে তারা বিদেশি সরকারগুলোকে সাহায্য করে থাকে। তবে শেষ পর্যন্ত মূলত রসদ সরবরাহজনিত ইরানকে সেই সহায়তা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেল ২১২ হেলিকপ্টারটি ৭০ দশক থেকে ইরানের আকাশে তার ডানা মেলে আসছে। ইসলামী বিপ্লবের আগে ইরানের বহরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার সংযুক্ত করা হয়। তবে বিপ্লবের পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ কিনতে বেগ পেতে হয় তেহরানকে। মূলত এ কারণে রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইরান সরকার জানিয়েছিল হার্ড ল্যান্ডিংয়ের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হার্ড ল্যান্ডিং তখন বলা হয়, যখন বৈরী আবহাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটি বা পাইলটের অদক্ষতার কারণে একটি হেলিকপ্টারকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গতিতে হঠাৎ অবতরণ করতে হয়। তাই স্পেয়ার পার্টসের অভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি এড়িয়ে দেওয়া যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত