মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শাহজাদপুরে প্রস্তুত ৮৭ হাজার পশু

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০২:১০ এএম

সামনে কোরবানির ঈদ। আর ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকায় পালন করা হচ্ছে ষাঁড় গরু। এদের হৃষ্টপুষ্টের জন্য যত্ন করা হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ানো হচ্ছে এদের খাদ্যের জোগান। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শাহজাদপুরে খামার ও গৃহস্থ পরিবারগুলোয় ৮৬ হাজার ৬৬১টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে এবার শতকরা ৭ ভাগ বেড়েছে। জানা গেছে, উপজেলায় বড়-ছোট ও পারিবারিকভাবে প্রায় ৭ হাজার ২৫০ জন খামারি ষাঁড়, বলদ ও বকনা গরু ছাড়াও মহিষ, ছাগল ভেড়া লালন-পালন করছেন। যমুনা নদী চরাঞ্চল কৈজুরী, সোনাতনী, জালালপুর ইউনিয়নে গৃহস্থ পরিবারগুলো লালন-পালন করছে এসব দেশীয় জাতের পশু।

সরেজমিন দেখা গেছে, পালিত ষাঁড়গুলো অধিকাংশই দেশীয় জাতের। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে গরুগুলোকে খাদ্যের জোগান আরও বাড়ানো হচ্ছে। যমুনা চরের গৃহস্থ পরিবারের অনেকেই অন্য পেশার পাশাপাশি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ষাঁড় গরু লালন-পালন করছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে, বিভিন্ন এলাকার খামারগুলোয় ও গৃহস্থ পরিবার মিলে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ৫৫ হাজার ৪২০টি ষাঁড়, বলদ ৩ হাজার ৬১৫টি, গাভী ও বকনা গরু রয়েছে ২ হাজার ৫৫০টি, ছাগল রয়েছে ১৭ হাজার ৭২০টি, ভেড়া ৭৩০৫টি। এগুলোকে এখন হৃষ্টপুষ্ট করা হচ্ছে।

কোরবানির পশুগুলোকে হৃষ্টপুষ্ট করতে গমের ভুসি, ছোলা, খেসারি ও মসুরের ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে। শাহজাদপুর উপজেলার জামিরতা গ্রামের জহুরুল ইসলাম, একই গ্রামের ছাইদুর রহমান ও পোরজনা ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম জানান, তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু কিনে খামারে এনে পালন করেন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির উদ্দেশ্যে খামারি ও গৃহস্থরা পশুগুলোকে পালন করছেন।

খামারিরা জানান, অধিকাংশ গরুই স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা এসে বাড়ি থেকে গরু কিনে নিয়ে যান। খামারিরা আরও জানান, গোখাদ্য ও ওষুধপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় তুলনামূলকভাবে পশু লালন-পালনে খরচ বেড়ে গেছে। চোরাইপথে দেশের বাইরে থেকে গরু না এলে ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে খামারিরা আশা করছেন। জামিরতা গ্রামের খামারি জহুরুল ইসলাম জানান, তার খামারে এবার ১৭টি গরু প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শে লালন-পালন করা হচ্ছে। ১ হাজার কেজি ওজনের তার খামারে রাজা নামের গরুটির দাম উঠেছে ৯ লাখ টাকা। তিনি আরও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন।

শাহজাদপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. বিল্লাল হোসেন জানান, শাহজাদপুর উপজেলায় কোরবানি ঈদে স্থানীয়ভাবে চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার গরু। তিনি জানান, খামারি ও গৃহস্থরা পশু লালন-পালনের জন্য হৃষ্টপুষ্ট করতে পশুখাদ্যের পাশাপাশি স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো লালন-পালন করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত