বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় যারা বাধা দিচ্ছেন, এক দিন তাদের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) আমাদের মাঝে আসতে দেওয়া হয় না। কথা বলতে দেওয়া হয় না। তার চিকিৎসার আশা বাংলাদেশের ডাক্তাররা ছেড়ে দিয়েছিলেন। বারবার বলেছেন, তাকে বিদেশে নেওয়া দরকার। এরপরও তারা (সরকার) কথা শোনেনি। জেনেশুনে একটা মানুষকে কিভাবে হত্যা করা হচ্ছে এটা ইতিহাস সাক্ষী হয়ে থাকবে। ইতিহাস সাক্ষী দেবে, কারা অপরাধী। যারা তাকে বিদেশে যেতে দিচ্ছেন না, যখন সুযোগ আসবে ইনশাআল্লাহ তাদের বিচার হবে।’
গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর লেখা ইংরেজি গ্রন্থ ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইভ, হার স্টোরি’-এর বাংলা সংস্করণ ‘খালেদা জিয়া : জীবন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে ‘ইতি প্রকাশনা’। বইটির ইংরেজি অনুবাদ করেছেন শাহরিয়ার সুলতান।
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার কথা তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এতো নির্দয়-নিষ্ঠুর আচরণ কোনো মানুষ মানুষের সঙ্গে করতে পারে? তাকে (খালেদা জিয়াকে) হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা দেখিয়েছিলেন হার্টের বাইপাস করতে না পেরে, বিকল্প ব্যবস্থায় রক্ত জমে যাতে ব্লক হয়ে মারা না যান, সে রাস্তা করে দিয়েছেন। দেখে এত খারাপ লেগেছিল, এই দৃশ্য দেখার পরে কেউ তাকে আটকিয়ে (বিদেশে যেতে) রাখতে পারে এটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা জামান বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাকে টর্চার করা হচ্ছে। হাসিনা আমলে জেলে গিয়েছেন, এরশাদের আমলে জেলে গিয়েছেন। চোখ দেখাতে আমাদের প্রেসিডেন্ট চলে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে ফ্যামিলিসহ। আরও অনেক নেতা সিঙ্গাপুর, লন্ডন, জার্মানি যাচ্ছে যখন-তখন। অথচ বেগম জিয়াকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।’
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহর সভাপতিত্বে ও কবি আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান ও শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, গ্রন্থের অনুবাদক শাহরিয়ার সুলতান, ইতি প্রকাশনার জহির দীপ্তি, গ্রন্থের লেখক প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর সহধর্মিনী দিনারজাদি বেগম প্রমুখ দেন। অন্যদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং জামায়াতে ইসলামীর মজিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
