রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক রেস্তোরাঁকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। তার নাম সোলায়মান (৩৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ বিস্ফোরণের ঘটনায় মোছা. শান্তা বেগম (২৬) নামে এক নারী দগ্ধ হয়েছেন। তার শরীরের ৩৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট ৪ নম্বর রোডের একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তিনতলা ওই বাড়িটির নিচতলায় তিতাস লাইনের গ্যাস বা স্যুয়ারেজ লাইনের গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে দেয়ালে ফাটল ধরে এবং কাচের জিনিসপত্র ভেঙে যায়। বাড়ির প্রবেশপথের লোহার গেট খুলে ভবনের পাশে একটি একতলা রেস্তোরাঁর ওপর পড়ে। লোহার গেটের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সোলায়মান। ঘটনার পরপরই বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান গতকাল বিকেলে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নারী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের ভাই এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, মৃত সোলায়মান ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী গ্রামের মৃত মনসুর আলীর ছেলে। ডিআইটি প্রজেক্ট রোডের ‘বাড্ডা কাবাব’ হোটেলে কাজ করতেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সোলায়মান ছিলেন বড়। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক তিনি। তার পরিবার গ্রামে থাকে।
সোলায়মানের ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, সোলায়মান বাড্ডা কাবাব হোটেলের রুটি তৈরির কারিগর। সকালে কাজে গিয়েছিলেন। গ্যাস লিকেজ থেকে পাশের একটি ভবনে বিস্ফোরণে গেটের কিছু অংশ ভেঙে তার মাথায় লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শান্তার স্বামী মাছ ব্যবসায়ী নাসির হাওলাদার বলেন, ডিআইটি প্রজেক্টের ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকি। বেশ কিছুদিন ধরে ওই বাসায় গ্যাসের গন্ধ পাচ্ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে গ্যাস লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণে ঘটনাটি ঘটে। আমার স্ত্রীকে গেটের বাইরে থেকে দগ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
বারিধারা ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ করে। ওই ভবনের নিচতলার ছোট একটি রুমে গ্যাস জমে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
