আজিজ-বেনজীরের অর্থ ঘূর্ণিদুর্গতদের মধ্যে বণ্টনের দাবি এবি পার্টির

আপডেট : ৩১ মে ২০২৪, ০৮:১০ পিএম

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং তাদের লুটকরা অর্থ উদ্ধার করে ঘূর্ণিদুর্গতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন-বিজয়নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

তারা বলেন, আওয়ামীলীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী প্রধান শক্তি। কথায় কথায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে তারা দেশে একব্যক্তির শাসন ও লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে।

বিক্ষোভ মিছিল শুরুর আগে বিজয়নগরস্থ বিজয়-৭১ চত্ত্বরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির আহ্বায়ক এ এফ এম সোলায়মান চৌধুরী। দলের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আব্দুল বাসেত মারজান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব এম আমজাদ খান, যুবপার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ফারুক, ছাত্রপক্ষের আহবায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে সোলায়মান চৌধুরী বলেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ পদে থেকে অপরাধ করেছেন। তাকে সেনা আইন ও ফৌজদারি দুই আইনেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বেনজীর আহমেদের শুদ্ধাচার সনদ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, অশুদ্ধ ও রং হেডেড সরকার প্রধানের পক্ষেই এরকম চরম দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়া সম্ভব। তিনি প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে মন্ত্রী, এমপি, সকল বাহিনী প্রধান, আমলা, শীর্ষ ব্যাবসায়ী ও শিল্পপতির সম্পদের তালিকা শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা জাতীয় রাজস্ববোর্ডের এখতিয়ারে রাখার দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ওবায়দুল কাদের একসময় বলেছিলেন বেনজীর-আজিজ কোনও দুর্নীতি করেননি, এগুলো সব মিথ্যা। আর এখন তিনি বলছেন দুর্নীতির দায়ে বেনজীর-আজিজের বিচার করা হবে। ওবায়দুল কাদের যখন একথা বলছেন তাহলে বুঝতে হবে এর আড়ালে অনেক বড় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।

তিনি প্রতিবছর উপকূল বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের নিন্দা জানিয়ে বলেন, একটু শক্তিশালী ঝড় ও জোয়ার এলেই বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাওয়া থেকে প্রমাণ হয় সরকার গরিব উপকূলীয় জনগণের জানমালের বিষয়ে কোনো দায় বোধ করে না। তিনি লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক হাজার বেনজীর ও আজিজ তৈরি করেছে। এদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুযোগ দিয়ে তার বিনিময়ে এদের কাছ থেকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ সার্ভিস নিয়েছে সরকার। ফলে দেশের সর্বক্ষেত্রে আজ হাহাকার।

তিনি ৮ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি ও অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা লোপাটের অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী প্রধান শক্তি। কথায় কথায় গণতন্ত্রের বুলি আওড়িয়ে তারা দেশে একব্যক্তির শাসন ও লুটপাটতন্ত্র কায়েম করেছে। তিনি অবিলম্বে সাবেক আইজি বেনজীর ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদকে গ্রেপ্তার এবং তাদের লুটকরা অর্থ উদ্ধার করে ঘূর্ণিদুর্গতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান।

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দেশে আবহাওয়ার এত আগাম সতর্কীকরণ সত্ত্বেও প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ে কেন এত জান-মালের ক্ষতি হয় তার কারণ জানতে হবে। দেশের দক্ষিণ উপকূলের জেলাগুলোতে কৃষক ও মৎস্যজীবীদের যে ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক প্রচারে সরকার বাধা দিচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই সরকার বেনজীর-আজিজ ও আনারের ঘটনা সামনে এনে দেশের মেহনতি মানুষের ক্ষতির গল্পগুলো ঢেকে রাখছে।

সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে তা সেগুনবাগিচা, কাকরাইল, নয়াপল্টন, বিজয়নগর ও পল্টনসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত