দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর রাজধানী লিমা বায়ুদূষণের সমস্যায় জর্জরিত। কয়েক শতাব্দী ধরে বন নিধন, বসতি ও শিল্পের লাগামহীন প্রসার পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে চলেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে কিছু উন্নতির চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো এক ফগ ক্যাচার নেটওয়ার্কের সাহায্যে পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা শীতকালীন কুয়াশা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। দেশটির পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, এ উপায়টি দূষণ কমানোর সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে বলছে, প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর হিসেবে লিমা বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে। মূলত পরিবহন ও শিল্প খাত এ অবস্থার জন্য দায়ী। ফাইন ডাস্ট বা সূক্ষ্ম ধূলিকণার দূষণের মাত্রার বিচারে ২০২২ সালে লিমা লাতিন আমেরিকায় দ্বিতীয় স্থান দখল করেছিল। প্রথম স্থানে ছিল চিলের সান্তিয়াগো শহর। কিন্তু সরকারি উদ্যোগে বাতাসের মান পরিমাপ অপর্যাপ্ত হওয়ার কারণে অনুমান করা হচ্ছে যে, বাস্তবে বায়ুদূষণের মাত্রা আসলে অনেক বেশি।
পেরুর ‘কাইরা’ নামের কোম্পানি লিমা শহরের বায়ুদূষণসংক্রান্ত তথ্য সবার নাগালে আনার লক্ষ্যে তারা সস্তার পরিমাপ যন্ত্র ও এক ডিজিটাল টুল সৃষ্টি করেছে। কোম্পানির প্রতিনিধি মোনিকা আবার্কা বলেন, আমরা এখন লিমার ওপর জুম করলে এমন তথ্য পাব, যা নজরদারি নেটওয়ার্কে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। সবুজের অর্থ ভালো, হলুদ মানে মাঝামাঝি অবস্থা এবং কমলা ও লাল রঙ খারাপ অবস্থা দেখাচ্ছে। ২ দশমিক ৫ সবচেয়ে খারাপ পরিমাপ। এর অর্থ আড়াই মাইক্রোমিটার বস্তুকণা। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পৌর কর্র্তৃপক্ষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নির্গমন কমাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারছে। তবে সেসব পদক্ষেপ অতি সামান্য উন্নতি আনতে পারছে।
তবে এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ হচ্ছে, কুয়াশা ধরা। এক ফগ ক্যাচার নেটওয়ার্কের সাহায্যে পরিবেশ সংরক্ষণকারীরা শীতকালীন কুয়াশা থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। পরিবেশ অ্যাকটিভিস্ট হিসেবে নোয়ে নেইরা টক্টো বলেন, এ পানি একেবারেই স্বচ্ছ। এ পানি আমরা এটির মতোই অন্যান্য জলাধারে পাঠিয়ে দিই এবং ড্রিপ ইরিগেশনের কাজে ব্যবহার করি। আর এর মাধ্যমে এক দিনে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার যেমন কমছে, তেমনি কমছে পানি তোলার জ¦ালানির থেকে দূষণও।
