বিয়ের সওদা করতে বেরিয়ে ফিরলেন ১৪ বছর পর

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০১:১১ এএম

পরিবারের পছন্দের পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে হবে, গায়ে হলুদের দিন আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখর বিয়েবাড়ি। নিজের গায়ে হলুদের সওদা করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফেনী শহরে যান বর। কিন্তু রাত গভীর হলেও বাড়ি ফেরেননি বর। অস্থির হয়ে সবাই তাকে খুঁজতে থাকেন, কিন্তু সন্ধান মেলেনি। বরকে খোঁজায় ব্যস্ত পরিবার অবশেষে বন্ধ করে দেন বিয়ের আয়োজন। ২০১০ সালের মার্চ মাসের ঘটনা এটি।

দীর্ঘ ১৪ বছর পর গত বুধবার তার সন্ধান মিলেছে রাঙ্গামাটির তবলছড়ি উপজেলায়। তার নাম মোস্তাফিজুর রহমান খোকা মিয়া। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পালগিরি গ্রামের জালাল মেম্বার বাড়ির মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে তিনি। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা তবলছড়ি থেকে মোস্তাফিজকে (৩৮) বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

মোস্তাফিজের বোন বিবি রহিমা নাজমা বলেন, ‘আমার ভাই ১৪ বছর আগে তার গায়ে হলুদের কাপড়চোপড় কেনার উদ্দেশ্যে ফেনী যায়। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি। এ ঘটনায় সোনাগাজী থানায় জিডি করেছি। প্রশাসন ভাইকে খুঁজে বের করতে পারেনি। কিছুদিন আগে আকাশ নামে আমাদের এক প্রতিবেশী কাজের সুবাদে রাঙ্গামাটির তবলছড়ি যায়। সেখানে একটি মসজিদের পাশে চা-দোকানে আমার ভাইকে দেখেন। বিষয়টি সে আমাদের জানায়। পরে গত বুধবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে তবলছড়ি গিয়ে ভাইকে শনাক্ত করে ওই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনি।’

ইউপি সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, ‘মোস্তাফিজ তবলছড়িতে স্থানীয় মোস্তাফা নামের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে ছিলেন। মোস্তফা আমাদের জানান, ১২ বছর আগে মোস্তাফিজকে তবলছড়িতে ঘোরাঘুরি করতে দেখতে পান। তখন সে নাম-ঠিকানা জানাতে পারেনি। মোস্তাফিজ সে সময় থেকে মোস্তফার আশ্রয়ে থেকে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।’

আবু সুফিয়ান আরও বলেন ‘মোস্তাফিজ নিখোঁজ হওয়ার আগের কোনো ঘটনাই মনে করতে পারছে না। আমাদের ধারণা কেনাকাটা করার জন্য যাওয়ার পথে হয়তো মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সে নিখোঁজ হয়। চলাফেরা স্বাভাবিক হলেও মোস্তাফিজের কথাবার্তা অসংলগ্ন, পূর্ব পরিচিত কাউকে চিনতে পারছে না। মানসিক সুস্থতার জন্য তাকে অতি দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে।’

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সুদ্বিপ রায় পলাশ বলেন, ‘নিখোঁজ মোস্তাফিজের বাড়ি ফেরার বিষয়টি পরিবার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আমাদের অবহিত করেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত