মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ১২:০৫ এএম

যেকোনো কাজ করার জন্য প্রয়োজন মস্তিষ্কের পূর্ণ সহযোগিতা, কি শিক্ষার্থী কি পেশাজীবী। কিন্তু সবাই কোনো না কোনো সময় অভিযোগ করে থাকেন ‘মাথা আর কাজ করছে না’। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলেই মস্তিষ্কের ক্ষমতাকে বাড়ানো যায়। জানাচ্ছেন এনাম-উজ-জামান

শরীরচর্চা

নিয়মিত শরীরচর্চার প্রয়োজনীয়তা আমরা সবাই জানি, স্বীকারও করি তবু সময় করে উঠতে পারি না। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শরীরচর্চার জন্য সময় বের করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা শুধু শরীর এবং মনকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখে-তা না বরং মস্তিষ্কে নিউরন কণিকার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়ায় বহুগুণে।

দিনের আলো মাখতে হবে গায়ে

মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়াতে গায়ে লাগাতে হবে সূর্যের আলো। সূর্যালোকে থাকে ভিটামিন-ডি। ভিটামিন-ডি দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মস্তিষ্ককে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযোগী রাখে। বয়স বৃদ্ধিজনিত সমস্যাকে ধীর করে। আর ভিটামিন-ডি’র সবচেয়ে বড় ও সহজলভ্য উৎস হলো সূর্যের আলো। তাই মস্তিষ্কের কর্মদক্ষতা বাড়াতে দিনের কিছু সময় সূর্যালোক গায়ে লাগাতে হবে। তবে গায়ে সূর্যের আলো লাগানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রখর রোদে বা ভরদুপুরে গায়ে দিনের আলো মাখতে যাবে না। গ্রীষ্মকালে বেশিক্ষণ রোদে থাকলে হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই সকালে বা বিকেলের হালকা আলোতে বের হতে পারো। প্রখর রোদে যদি কোনো কাজে বের হতেই হয় তাহলে ছাতা, টুপি, পানির বোতল ইত্যাদি নিতে ভুলো না।

বন্ধুসঙ্গ

নিঃসঙ্গতা মানুষের শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিঃসঙ্গতা আনে বিষণœতা। আর অতিরিক্ত বিষণœতা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে। তাই নিঃসঙ্গতা এবং বিষণœতা দূর করতে বন্ধুদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলো। বন্ধুর সংখ্যার থেকে গুণগত মানের প্রতি মনোনিবেশ করো। অনেক বন্ধু থাকার পরও যদি মনের কথা কাউকে বলে হালকা না হতে পারো তাহলে তুমি সেই নিঃসঙ্গই থেকে যাবে। এমন বন্ধুত্বের প্রয়োজন নেই। তাই বন্ধুর সংখ্যা না বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় করার প্রতি মনোযোগ দাও।

ধ্যান

ধ্যান মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। স্ট্রেস কমায়। বয়সজনিত মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ যেমন আলঝেইমার বা ডেমনেশিয়া ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধ করে। তাছাড়া ধ্যানের অর্থ নিজেকে নিজের সময় দেওয়া। এই সময়ে আত্মপর্যালোচনা করা যায়, নিজের উন্নতির জন্য তা অত্যন্ত উপকারী। ধ্যানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্ক সর্বোচ্চ উপায়ে কাজ করে।

পরিপূর্ণ ঘুম

কর্মব্যস্ত সারা দিনের শেষে ক্লান্ত মস্তিষ্কের বিশ্রামের জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ ঘুম। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুম খুবই প্রয়োজনীয়। ঘুমের মধ্যে শরীর ক্ষয় পূরণ করে এবং মস্তিষ্ক বিশ্রাম নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে পরবর্তী দিনের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু যদি ঘুম পূর্ণ না হয় তাহলে মস্তিষ্ক পূর্ণ বিশ্রাম পায় না। ফলে মস্তিষ্ক তার কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে। তাই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়াতে অধিক রাত জাগার অভ্যাস বদলে ফেলো, রাতে পরিপূর্ণ ঘুমাও।

স্বাস্থ্যকর খাবার খাও

পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। দেহকে সুস্থ-সবল রাখতে যেমন প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার তেমনি মস্তিষ্ককেও কার্যক্ষম রাখতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। খাদ্য তালিকায় সুষম খাদ্য রাখো। ভিটামিন এ, বি, সি, ই যুক্ত খাবার ও ফলমূল রাখো। ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত