ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোটের প্রচার শেষ করেই সোজা তামিলনাড়ুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলা, ‘ধ্যানমণ্ডপম’-এ ধ্যানে বসেন তিনি। তবে টানা ৪৫ ঘণ্টার ধ্যানেও এই রাজ্যে শেষ রক্ষা হয়নি মোদির দল বিজেপির। পুরো তামিলনাড়ু রাজ্যে একটি আসনও পায়নি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট মাত্র একটি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ, ভোটের ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, ভোটপ্রচারের সময় তামিল আবেগ উস্কে দিয়েও লাভ হয়নি মোদী-অমিত শাহদের।
দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, তামিলনাড়ুতে এ বারও একপেশে নির্বাচন হয়েছে। দাপটের সঙ্গে জিতেছে রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে। রাজ্যের মোট ৩৯টি আসনের মধ্যে তাদের ঝুলিতে গেছে ২২টি আসন। প্রধান বিরোধীদল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস পেয়েছে ৯টি আসন। ২০১৯ সালের মতো দু’টি করে আসন পেয়েছে সিপিএম এবং সিপিআই। ইনডিয়া জোটের অন্য দুই শরিক দল একটি করে আসন পেয়েছে এ বারের ভোটে।
হিন্দিবলয়ে দাপট থাকলেও বিগত লোকসভা নির্বাচনগুলিতে দক্ষিণ ভারতে তেমন ‘প্রভাব’ ফেলতে পারেনি বিজেপি। তাই এ বারের নির্বাচনে দক্ষিণ ভারতে আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করতে কোনও কমতি রাখতে চায়নি পদ্মশিবির। বিশেষত, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য নিয়ে আলাদা হিসাবনিকাশ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তামিল রাজ্যে সুবিধা করতে পারেনি বিজেপি। কিন্তু এ বার সেই অঙ্ক পাল্টাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মোদী-শাহ। কিন্তু এই জুটির জাদু কাজ করল না।
ভোটঘোষণার পর থেকেই বার বার তামিলনাড়ু গিয়েছেন মোদী। রোড-শো থেকে জনসভা কিংবা ধ্যান, বাদ পড়েনি কিছুই। তামিলনাড়ুর বিজেপি নেতৃত্বও আদাজল খেয়ে নেমেছিলেন ভোটপ্রচারে। মোদী প্রতিটি সভা থেকেই চেষ্টা করে গিয়েছেন তামিল আবেগ উস্কে দিতে। তা করতে গিয়ে তিনি টেনে এনেছেন কচ্চতীবু দ্বীপকে। ভোটের মুখে মুখেই এই দ্বীপ সংক্রান্ত একটি তথ্য প্রকাশ্যে এসেছিল। তথ্য জানার অধিকার আইনের (আরটিআই) বলে প্রাপ্ত সেই রিপোর্ট সামনে রেখেই কংগ্রেস এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নিশানা করেছিলেন মোদী। সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মোদী বলেছেন, ‘ভগবান রামের নাম রয়েছে, এমন গ্রামের সংখ্যা তো সবচেয়ে বেশি তামিলনাড়ুতেই।’ যে সূত্রে রাজনীতিবিদদের একাংশ মনে করেছিলেন, তামিলভূমের আঞ্চলিক আবেগ উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি ‘হিন্দুত্ববাদী’ তাসও খেলেছেন মোদী।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।
