মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তবুও হৃদয় যন্ত্রণার নাম যখন ব্যাটিং

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ১২:৫৭ এএম

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা শেষ হয়েছে। চ-িকা হাথুরুসিংহে আর মাহমুদউল্লাহ গলা জড়াজড়ি করে ড্রেসিং রুমে ফিরছেন। সমর্থকরা ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ জয়ধ্বনিতে টেক্সাসের বাতাস কাঁপিয়ে মাঠ থেকে বের হচ্ছেন। এসব রূপকথার মতো ছবির আড়ালে ঢাকা পড়েছে বাংলাদেশ দলের কুৎসিত ব্যাটিং। ১২৫ রানের জন্য বাংলাদেশকে খেলতে হয়েছে ১৯ ওভার পর্যন্ত, হারিয়েছে ৮ উইকেটে। সবটাই কি শ্রীলঙ্কার বোলারদের কৃতিত্ব নাকি দায় আছে ব্যাটসম্যানদেরও?

ডালাসে যে ৮ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন, তার ভেতর অন্তত ৬ জন নিজেদের উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন। তাসকিন আহমেদ নুয়ান থুসারার যে টো-ক্রাশিং ইয়র্কারে লেগ বিফোর উইকেটের শিকার হয়েছেন কিংবা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার যে বলটা লিটন দাসের ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে পেছনের প্যাডে আঘাত করেছে, এই দুটো ডেলিভারিকে ‘আনপ্লেয়েবল’ বলা যায়। কিন্তু বাকি ৬ জন? শুরুতেই সৌম্য সরকার ত্রিশ গজ বৃত্তের ভেতর যেভাবে ক্যাচ তুলে দিলেন, সেটা তার বেপরোয়া মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। একের পর এক ইনিংসে শূন্য (০)তে আউট হয়েও সৌম্যর কোনো হেলদোল নেই, কারণ তিনি বুঝে গেছেন রান না করলেও তার জন্য জাতীয় দলের দরজা খুলে যাবে। গেল বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের দলে ছিলেন না, বিশ্বকাপের পর নিউজিল্যান্ড সফরে ফিরে শূন্য দিয়ে শুরু করার পর ১৬৯ রানের ইনিংস খেলে নতুন করে আসেন আলোচনায়। ম্যাচটা যদিও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এরপর ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পর্যন্ত ১৪টা সাদা বলের ম্যাচ হয়ে গেল তার, সেখানে মাত্র একটা হাফসেঞ্চুরি। এমন দুর্বল ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানকে বিশ্বকাপে নেওয়ার ফল শূন্য দিয়ে শুরু, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষেও একটি শূন্য আছে, শূন্য আছে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও।

রানখরায় ভুগছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। এই বছর ১২টা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন শান্ত, ১১ ইনিংসে করেছেন মাত্র ২০১ রান। স্ট্রাইক-রেট ১০০’র নিচে, হাফসেঞ্চুরি একটি। এরকম পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের বিশ্বকাপ দলেই হয়তো সুযোগ পেতেন না, সেখানে শান্ত নেতৃত্বের আসনে থেকে বিশ্বকাপে। ডালাসে শান্ত আউট হয়েছেন মাত্র ৭ রান করে। অফস্টাম্পের বাইরে ফুলার লেন্থের বল, ড্রাইভ করার জন্যই আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছিলেন থুসারা, সেজন্যই শর্ট এক্সট্রা কভারে ফিল্ডারও দাঁড় করিয়েছিলেন হাসারাঙ্গা। শান্ত ড্রাইভ খেলতে গিয়ে সরাসরি বল তুলে দিয়েছেন তারই হাতে। প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ থেকে পাতা ফাঁদে ধরা পড়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

তারুণ্যের জন্য ত্রুটি মার্জনা করা যায় তানজিদ তামিমের, বল না বুঝে ব্যাট চালিয়ে হয়েছেন বোল্ড। তিন ছক্কায় বীর বনে গেলেও চতুর্থ বলে হাসারাঙ্গা ঠিকই ফিরিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়কে। ঝোলানো বলটায় ফের মারতে গিয়ে মিস করেই পায়ে লেগে আউট হয়েছেন হৃদয়। ম্যাচের লক্ষ্য যেখানে মাত্র ১২৫ রান, সেখানে একটা ওভারের প্রথম ৩ বলে ১৮ রান হয়ে যাওয়ার পরও লোভী হয়ে ওঠার খেসারতই কি দিলেন হৃদয়? বলটা সোজা ব্যাটে নামিয়ে খেলে কোনো রান না হলেও কি ম্যাচের পরিস্থিতির খুব বেশি ক্ষতি হতো? খেলা তো তখন লিটন আর হৃদয়ের নাটাইয়েই।

বিভীষিকাময় ব্যাটিং করছেন সাকিব। বিশ্বকাপ থেকেই বয়ে নেওয়া চোখের সমস্যা, হেড পজিশনের সমস্যা সবই প্রভাব ফেলছে ব্যাটিংয়ে। কাল হয়ে ওঠা কাট শটে বারবার আউট হয়ে যাচ্ছেন। বিপিএলে অনেক ম্যাচে দরকার না হলে ব্যাট করতে নামতেনই না, নিচের দিকে নেমে খেলেছেন। বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগে ঢাকা লিগে ৩ ম্যাচ, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ২ টি-টোয়েন্টি আর যুক্তরাষ্ট্রে এসে ৩টা ইনিংস। ঢাকা লিগে দুই ইনিংসে রান করেছিলেন কিন্তু জিম্বাবুয়ে আর যুক্তরাষ্ট্রের বোলিংয়ের বিপক্ষেও রান পাননি, ভারতের বিপক্ষে তো কুৎসিত ব্যাটিং করেছেন।

এই ব্যাটসম্যানদেরই যখন আজ ইয়ানসেন, নরকিয়া, রাবাদা, বার্টম্যানদের সামনে নামতে হবে, তখন অজান্তেই বুক কেঁপে ওঠে। তাদের সামনে শ্রীলঙ্কা এই নিউ ইয়র্কের মাটিতেই অপদস্থ হয়েছে ৭৭ রানে অলআউট হয়ে। বাংলাদেশ ডালাসে দেখিয়েছে যে তারা ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কার চেয়ে সামান্য ভালো। কিন্তু তাতে বোধহয় আরও একবার ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার আশঙ্কা ঠেকানো যাচ্ছে না।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত