সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী এসি দিচ্ছে ওয়ালটন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০১:০৬ এএম

ওয়ালটন এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন সম্পর্কে বলুন। আপনাদের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা কত?

ওয়ালটন দেশের প্রথম ও সর্ববৃহৎ এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে বাংলাদেশে প্রথম এয়ারকন্ডিশনার প্রোডাকশন প্ল্যান্ট স্থাপন করে ওয়ালটন। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতারা যেন বিশ্বমানের ইলেকট্রনিকস পণ্য ও সেবাসাশ্রয়ী মূল্যে পেতে পারেন। সেজন্য এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদনে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশের সুরক্ষার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছি। গ্রাহক চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ওয়ালটনের নিজস্ব সুদক্ষ গবেষণা ও উদ্ভাবন (রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন) নিরলস গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এয়ারকন্ডিশনার। দেশে এসি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের ফলে এ খাতে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। এর ফলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান হচ্ছে। বাড়ছে রপ্তানি আয়। বিশ্বের মাত্র ৯টি দেশ ভিআরএফ উৎপাদন করে। তার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশের ওয়ালটন। বর্তমানে আমাদের বার্ষিক দুই লাখ ইউনিট এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে।

এ বছর এসির চাহিদা কেমন বেড়েছে? এ বছর কী পরিমাণ এসি বিক্রি হতে পারে?

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বিদ্যুতের সহজলভ্যতা, মানুষের জীবনযাত্রা ও ক্রয়ক্ষমতার মান বৃদ্ধি ইত্যাদি নানা কারণে দেশে এয়ারকন্ডিশনারের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর গরমের তীব্রতা অনেক বেশি। প্রচন্ড গরমে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে এ বছর অনেকেই ‘এসি’ কিনছেন। অন্য বছরগুলোয় দেশের এসি বাজারে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও এ বছর তীব্র তাপপ্রবাহে প্রবৃদ্ধির হার ৩০ শতাংশের বেশি হবে।

আপনাদের ব্র্যান্ডের এসির বিশেষত্ব কী?

ওয়ালটন এসির বিশেষত্ব হচ্ছে ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তিসহ বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের ব্যবহার, আন্তর্জাতিকমানসম্পন্ন, পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও দীর্ঘ স্থায়িত্ব, দামে সাশ্রয়ী, মডেলের ভিন্নতা এবং দেশব্যাপী বিস্তৃত সর্বোচ্চসংখ্যক সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা। বাংলাদেশে একমাত্র ওয়ালটনই ব্যাপক বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। পরিবেশ সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউএনডিপির সমন্বয়ে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ওয়ালটন এসিতে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্ব স্বীকৃত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব আর-৩২ গ্যাস, যা পরিবেশ সুরক্ষায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখে চলছে। ইতিমধ্যে ওয়ালটন এসিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক সিএফসি এবং এইচসিএফসি গ্যাসের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ওয়ালটন। ফলে পরিবেশবান্ধব শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র উৎপাদনে ভারত ও চীন থেকে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ওয়ালটনের উৎপাদিত ৯০ ভাগ এসিই বিদ্যুৎসাশ্রয়ী। কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ওয়ালটন যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখছে, তেমনি দেশের উৎপাদিত বিদ্যুতের সুষম ব্যবহারও নিশ্চিত করছে।

আপনারা এসি বিক্রিতে ক্রেতাকে কী কী সুবিধা দিচ্ছেন?

গ্রাহকদের সেরা দামে সেরা মানের এসি দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবার নিশ্চয়তা দিচ্ছে ওয়ালটন। সর্বোচ্চ গুণগতমানের নিশ্চয়তাসহ ওয়ালটন এসিতে গ্রাহকরা পাচ্ছেন এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি, কমপ্রেশারে ১০ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি, তিন বছরের স্পেয়ার পার্টস ওয়ারেন্টি এবং ফ্রি ক্লিনিং সার্ভিস। এ ছাড়া বাংলাদেশে আইএসও সার্টিফায়েড সর্ববৃহৎ সার্ভিস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ৮০টিরও অধিক সার্ভিস পয়েন্টের আওতায় ৩ হাজার ৫০০-এরও বেশি সার্ভিস পার্টনারের মাধ্যমে গ্রাহকদের দ্রুত ও সর্বোত্তম বিক্রয়োত্তর সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ওয়ালটন।

অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি দেশব্যাপী চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২০-এর আওতায় ওয়ালটন এসি কিনে ‘নন-স্টপ মিলিয়নিয়ার’ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা। রয়েছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত উপহার। ইতিমধ্যে ওয়ালটন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন বেশ কয়েকজন ক্রেতা।

এসির রপ্তানি নিয়ে আপনাদের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

ওয়ালটনের তৈরি আন্তর্জাতিকমানের এসি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারেও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’খ্যাত এসির শক্তিশালী অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নতবিশ্বে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছি আমরা। সেজন্য গঠন করেছি সুদক্ষ এবং চৌকস গ্লোবাল বিজনেস টিম। পাশাপাশি কয়েকটি দেশে সাবসিডিয়ারি এবং শাখা অফিস স্থাপন করেছি। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপন করেছি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার। সেখানে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের উদ্ভাবনী পণ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার স্ট্যান্ডার্ড, আবহাওয়া এবং ক্রেতাদের চাহিদা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত