শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এবার ঈদে মাকে বোনাস দেওয়া হলো না রাফির

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০৮:১৮ পিএম

চট্টগ্রাম নগরে মোটরসাইকেলের হর্ন দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষে পোশাককর্মী মনিরুজ্জামান রাফি খুনে জড়িতরা কিশোর গ্যাং সদস্য  বলে মন্তব্য করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর জোন) সাকিলা সোলতানা। রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সোমবার (১০ জুন) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে উক্ত মন্তব্য করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল রবিবার (৯ জুন) দিনগত রাতে নগরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে রাফি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

তারা হলেন, কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার আকবর বাড়ির জাহিদুল ইসলাম (২২), নগরের কোতোয়ালী থানার কাজির দেউড়ি এলাকার মোবারক  হোসেন (২৩), সন্দ্বীপ উপজেলার মাইঠভাঙা এলাকার ইকবাল হোসেন ইমন (২২), নগরের পতেঙ্গা থানার মাইজপাড়া এলাকার শাহরিয়ার আল আহমেদ (২০), একই থানা এলাকার উত্তর পতেঙ্গা আবুল বাশারের বাড়ির জোবায়ের বাশার (৩৪), বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকার তাহরিয়ার আহমেদ বাঁধন (২০) এবং হাটহাজারী থানার কাটিরহাট গ্রামের মো. মারুফ  চৌধুরী (২১)।

সংবাদ সম্মেলনের ডিসি শাকিলা সোলতানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাফি খুনের সঙ্গে জড়িতদের কিশোর গ্যাং হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। কারণ যারা ঘটনাস্থলে ছিলো তারা বয়সে বেশিরভাগ কিশোর। তারা যে সময়টিতে সী-বিচে ছিল সেটি  কোনোভাবেই বয়স হিসেবে উপযুক্ত ছিলো না। তারা সী-বিচে গিয়েছিলো আনন্দ করতে। পূর্বপরিকল্পিত না হলেও যারা সেখানে গিয়েছিলো আমার মনে হয় তারা ভালো পরিবারের সন্তান না। আমার মনে হয় তারা কিশোর গ্যাং সদস্য।’ 

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) ভোর ৪টার দিকে আমাদের কাছে সংবাদ আসে দুটি পক্ষের মধ্যে মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারের পাইপে উচ্চ শব্দে হর্ন দেওয়া নিয়ে মারামারি হয়। এ সময় ৪/৫ জনের যে গ্রুপটি ছিল তাদের ওপর ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ হামলা করে। তাদের কাছে ছুরিও ছিল। 

এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সকাল ৯টার দিকে আহত ভিকটিম মনিরুজ্জামান রাফি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এটি তাৎক্ষণিক সৃষ্ট একটি ঘটনা। দুপক্ষই ঝগড়া করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম রাফির মা জান্নাতুল ফেরদৌস। 

এ সময় তিনি ছেলের জন্য আহাজারি করতে করতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার একটা ছেলে। আমি আমার ছেলে ছাড়া আর কেউ নাই। আমার ছেলেকে ওরা কীভাবে মারলো? আমার ছেলেটা কই? সোনার টুকরাটা কই? আমার কলিজাটা আর আমার কাছে আবদার করবে না।’

এবার কোরবানির ঈদে বোনাস পেয়ে আমাকে টাকা দিবে বলেছিলো। আমার ছেলে আর আমার সাথে কথা বলবে না। এর আগে গত রবিবার (৯ জুন) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় মোটরসাইকেলের সাইলেন্সার পাইপের শব্দ করাকে কেন্দ্র করে মারামারিতে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে খুন হন পোশাককর্মী মনিরুজ্জামান রাফি। নিহত রাফি বন্দর থানার মধ্যম হালিশহরের বাকের আলী ফকিটের টেক ইসমাইল মালুমের বাড়ির মোহাম্মদ রফিকের ছেলে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত