বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চার ইসরায়েলির জীবনের দাম ২৭৪ ফিলিস্তিনি!

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ এএম

ইসরায়েল গত শনিবার গাজার নুসাইরাত শরণার্থীশিবিরে অভিযান চালিয়ে চার জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করেছে। ইসরায়েলের দুই ঘণ্টার এ অভিযানে শিশু, অন্য বেসামরিক ব্যক্তিসহ ২৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। নুসাইরাত শরণার্থীশিবির ঘিরে ইসরায়েলের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে দেশটির সেনাদের সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। অভিযানে ইসরায়েলের বিমানবাহিনীও অংশ নেয়।

উদ্ধার চার জিম্মি হলেন নোয়া আরগামানি, আলমোগ মেইর জান, আন্দ্রেই কোজলভ ও শ্লোমি জি। গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নোভা সংগীত উৎসব থেকে তাদের অপহরণ করেছিল হামাস। এখন তারা ইসরায়েলে ফিরে গেছেন। গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের দুই ঘণ্টার অভিযানে ২৭৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ইতিমধ্যে নিহত ৮৬ জনের নামও প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়টি। তবে অভিযানের পর ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেছিলেন, অভিযানে ১০০-এর কম মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, জটিল অভিযান’ বলেন তিনি।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত জানান, বিপুল গোলাগুলির মধ্যে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে আহত বিশেষ বাহিনীর এক কর্মকর্তা পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে মারা গেছেন।

গতকালের জিম্মি উদ্ধার অভিযানে ২৭৪ ফিলিস্তিনি নিহতের দাবি সত্যি হলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটি ফিলিস্তিনিদের জন্য আরেকটি ভয়াবহ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

চার জিম্মি পরিবারের কাছে ফেরায় ইসরায়েলের মানুষকে উৎসব করতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অনেক বিশ্বনেতা জিম্মি উদ্ধারকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু গাজার অভ্যন্তরে অভিযানে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি বাড়ায় বিশ্বে ইসরায়েলের সমালোচনা বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল জিম্মি উদ্ধার অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, গাজায় আরেকটি হত্যাকাণ্ডের খবর শোনা যাচ্ছে, এটা অত্যন্ত ভয়ংকর। চার জিম্মিকে উদ্ধারের বিষয়টি গত শনিবার জানিয়েছে ইসরায়েল। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সিডস অব সামার’ বা ‘গ্রীষ্মের বীজ’। অভিযানটি দিনের বেলায় চালানো হয়েছিল। সচরাচর এমনটি করে না ইসরায়েলি বাহিনী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত