যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্লিঙ্কেনের শঙ্কা

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৪, ০২:৫৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া গাজার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে তার শঙ্কা আছে। হামাস শুরুতে এ প্রস্তাব স্বাগত জানালেও এখন তারা কিছু ধারা ও শর্তের পরিবর্তনের দাবি করায় এটি আপাতত আলোর মুখ দেখবে না বলেই মনে করছেন ব্লিঙ্কেন। আলজাজিরা বলছে, গতকাল কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন ব্লিঙ্কেন। 

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবের ব্যাপারে হামাসের জবাব দেওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন গত বুধবার প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার যান। গতকাল সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ৩১ মে গৃহীত পরিকল্পনার বিষয়ে হামাস মঙ্গলবার দিনের শেষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সূত্র জানায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধবিরতির সময়সীমা সম্পর্কিত সংশোধনীসহ হামাস তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বাইডেনের পরিকল্পনায় ‘জনসংখ্যাপূর্ণ প্রধান এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ছয় সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, আলোচকরা একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুদ্ধবিরতির এই মেয়াদ আরও বাড়ানো হবে।

শুরুতে হামাস এটিকে স্বাগত জানালেও গতকাল তারা কিছু সংশোধনীর কথা বলেছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই ব্লিঙ্কেন বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো নিশ্চিত করে বলা তার পক্ষে সম্ভব নয়। হামাস যা বলেছে, তার কিছু মেনে আলোচনা এগোনো যায়, তবে কিছু বিষয় নিয়ে অসম্ভব।

অবশ্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আবদুলরহমান বলেছেন, আমরা আসলে একটা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে ১৯৬৭ সালে নির্ধারণ করা সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাই এই সংকটের সমাধান হতে পারে। 

বুধবারের শুরুতে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ইজ্জত আল-রিশক এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের জবাব ‘দায়িত্বপূর্ণ, ঐকান্তিক ও ইতিবাচক’ এবং তা একটি চুক্তির বিষয়ে ‘একটি প্রশস্ত পথ খুলে দিয়েছে’। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন হামাস কমকর্তা মঙ্গলবার রয়টার্সকে বলেছেন, একটি যুদ্ধবিরতি অবশ্যই গাজায় শত্রুতার স্থায়ী অবসান, ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি নিশ্চিত করবে সম্মতিপত্রে নিজেদের এ অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইসরায়েল তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, কিন্তু ইসরায়েল প্রকাশ্যে একথা জানায়নি। ইসরায়েল গাজার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখেছে, আট মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে প্রাণঘাতী কয়েকটি দিনও এর মধ্যে ছিল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বলে যাচ্ছেন, হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করার কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না ইসরায়েল। ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার বলেছেন, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হামাসের জবাব হাতে পেয়েছেন আর হামাস যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের ‘সব মূল ও সবচেয়ে অর্থপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উপস্থাপন করা জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে গাজায় বিপুল হত্যাযজ্ঞ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল বলে উল্লেখ করে  জাতিসংঘ। সংস্থাটির ভাষ্য, গাজায় যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ই যুদ্ধাপরাধ করেছে। জাতিসংঘ ইনকোয়ারি কমিশন (সিওআই) দুটো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একটি গত বছর ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে ঢুকে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলা নিয়ে এবং আরেকটি এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলা নিয়ে।

ইসরায়েল এ তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করেনি। এই কমিশন ইসরায়েলবিরোধী পক্ষপাতদুষ্ট বলে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে। সিওআই বলছে, ইসরায়েল তাদের কাজে বাধা দিয়েছে। ইসরায়েল এবং অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলগুলোতে তারা জাতিসংঘ তদন্তকারীদের ঢুকতে দেয়নি।

ইসরায়েলের ভাষ্যমতে, গত বছর ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল এবং হামাস যোদ্ধারা ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গিয়েছিল। আর হামাসের ওই হামলার পরই গাজায় ইসরায়েলের শুরু করা সামরিক অভিযানে ফিলিস্তিনের ভাষ্যমতে, এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয়পক্ষই নির্যাতন, ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর আচরণ করে যুদ্ধাপরাধ করেছে। তাছাড়া গাজায় মানুষজনকে অনাহারে রেখে ইসরায়েল আরেকটি যুদ্ধাপরাধ করেছে। তারা কেবল গাজাবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, আশ্রয়, চিকিৎসা দিতেই ব্যর্থ হয়নি বরং এসব প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহও আটকে দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত