সংঘর্ষে উত্তাল আর্জেন্টিনার রাজধানী

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৪, ০১:২৮ এএম

বিতর্কিত অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে তীব্র বিরোধিতার ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলে। ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট মিলে দেশটির পিছিয়ে পড়া অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে যে সংস্কার প্রস্তাব করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা, পেনশন কাঁটছাট এবং শ্রমিকদের অধিকার হ্রাস করা।

তবে বিরোধীরা বলছে, সরকারের এ পদক্ষেপে লাখ লাখ আর্জেন্টাইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গত বুধবার দেশটির সেনেটে যখন প্রস্তাবটির অনুমোদন হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পেট্রোলবোমা ও পাথর ছুড়ে মারে এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব সংঘর্ষের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

বিবিসি বলছে, আর্জেন্টিনার গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই ডানপন্থি অর্থনীতিবিদ মিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ছয় মাস পার করে ফেললেও অর্থনীতির পতন ঠেকাতে কোনো সফলতা দেখাতে পারেননি তিনি। বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি এখন প্রায় ৩০০ শতাংশের কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। আর্জেন্টিনার অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছেন। মিলের এ অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপের বিরোধিতা করছে দেশটির বামপন্থি রাজনৈতিক দল, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো। তারপরও বুধবার সেনেটে তার সংস্কার প্রস্তাব পাস হয়। ভোটাভুটিতে প্রথমে প্রস্তাবটির পক্ষে-বিপক্ষে সমান ৩৬-৩৬ ভোট পড়েছিল। তখন সেনেট চেম্বারের প্রধান ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলারুয়েল প্রস্তাবের পক্ষে নিজের ভোটটি দিয়ে এ পরিস্থিতির অবসান ঘটান। অবশ্য এ প্রস্তাবের চূড়ান্ত ভোটাভুটি হবে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে। বুধবার বিলটি পাস হওয়ার আগে বিক্ষোভকারীরা সেøাগান দেয়, ‘দেশ বিক্রির জন্য নয়, দেশকে আগলে রাখতে হয়।’ আরেকটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘কীভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রকে ঘৃণা করতে পারেন?’

পর্যবেক্ষক ও বিরোধীদলীয় এমপিরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে থাকা বিরোধীদলীয় অন্তত পাঁচজন এমপিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের পিছু হটিয়ে দেয়।

এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট মিলের দপ্তর অভ্যুত্থানের চেষ্টাকারী সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। বুয়েনস আয়ার্সে এক সম্মেলনে মিলে বলেন, আমরা আর্জেন্টিনাকে বদলে দিতে যাচ্ছি, আমরা আর্জেন্টিনাকে বিশে^র সবচেয়ে উদার দেশে পরিণত করতে যাচ্ছি। মিলে অবশ্য গত বছর সরকারি ব্যয়ের ব্যাপক কাঁটছাটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। ক্ষমতায় আসার পর নানা পদক্ষেপও নিয়েছেন। কিন্তু এখন আর্জেন্টাইনদের ভাগ্য বদলের দিশা দেখাতে পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত