আগামীকাল (সোমবার) পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের আনন্দ পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে গতকালও (শনিবার) ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষজনকে। প্রচন্ড রোদে ট্রাক-পিকআপের যাত্রী হয়েও শিশু, বৃদ্ধ বয়সের নারী-পুরুষকে দেখা গেছে নাড়ির টানে মহাসড়কে চলতে। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
টাঙ্গাইল : দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস ও কালিহাতী উপজেলার সল্লা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ট্রাক এবং পিকআপের যাত্রী হয়ে মানুষ ছুটছেন বাড়ির দিকে।
সন্দেশ আলী নামের পিকআপের এক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাসে দুইগুণেরও বেশি ভাড়া চাচ্ছিল। এজন্য ঝুঁকি নিয়ে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে প্রচ- রোদে পিকআপে উঠেছি।’ সন্দেশ আলী সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘চাকরি করি পোশাক কারখানায়। এবার বেতন-বোনাসসহ ২০ হাজার টাকা হাতে পেয়েছি। ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে ২৫০ টাকা ভাড়ায় ব্যক্তিগত কাজে আশেকপুর বাইপাস এলাকাতে নেমেছি। ঈদে স্বজনদের জন্য কেনাকাটায় ব্যয় করেছি ১২ হাজার টাকা। বাকি ৮ হাজার টাকা দিয়ে ঈদ খরচ ও ছুটি শেষে আমাকে ঢাকায় ফিরতে হবে। এ টাকা বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে এসেছি।’
আশেকপুর বাইপাস এলাকায় কথা হয় সুমন মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২৫০ টাকার বাসভাড়া ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে এ জন্য অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও কিছু করার নেই। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতেই হবে।’
নাম প্রকাশ না শর্তে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুমন পরিবহনের এক বাসচালক বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের চাপ ও মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এ জন্য একটু বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর সাজেদুর রহমান বলেন, ‘পিকআপ ও খোলা ট্রাকের ছাদে করে যেন যাত্রী না নেওয়া হয় সেজন্য বাধা দেওয়া হচ্ছে। যারা কথা শুনছেন না তাদের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হচ্ছে।’
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ঢাকা-ময়মনসিংহ লাইনে চলাচলকারী ট্রেনগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে করে ঘরে ফিরছেন মানুষ।
ঘরমুখোরা জানান, যেকোনো মূল্যেই ফিরতে হবে ঘরে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে হবে। তাই ট্রেনের ভেতরে জায়গা না হওয়াতে ঠাঁই নিয়েছেন ট্রেনের ছাদে। নারী, পুরুষ, শিশুসহ ছাদে হাজারও মানুষের ভিড়। জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ভেতরে ও ছাদে প্রচ- ভিড় দেখা যায়। টিকিট কেটেও অনেকেই নিজ আসন পর্যন্ত যেতে পারেননি বলেও জানান।
কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, ঈদ স্পেশাল ট্রেন, বলাকা কমিউটার, দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, মহুয়া কমিউটার, জামালপুর কমিউটার ট্রেনগুলোতে দেখা যায় এমন ভিড়।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) : শনিবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, গরু ভর্তি ট্রাক নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছেন চালকরা। তারা বিভিন্ন হাটে গরু নামিয়ে ফেরার সময় যাত্রী নিয়ে ফিরছেন। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভরসা রাখছেন গরুর ট্রাকে।
কথা হয় গার্মেন্টসকর্মী রবিউল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অনেক চেষ্টার পরেও বাসের টিকিট পাইনি। টিকিট ছাড়া যেই বাস ছাড়ে তার ভাড়াও দ্বিগুণ চায়। তাই ট্রাকে বাড়ি ফিরছি।’
ট্রাকচালকরা বলেন, ‘গরু নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। হাটে গরু নামিয়ে দিয়ে এখন ফেরার পথে কিছু যাত্রী নিয়ে যাচ্ছি। এতে আমাদের বাড়তি কিছু টাকা আসে।’
