সংসদে আবদুল মোমেন

আমলাদের একটি অংশ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠেছেন

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০৬:০৬ এএম

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এ কে আবদুল মোমেন দুর্নীতিকে সরকারের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি গত ১৬ বছর ধরে যেভাবে ধরে রেখেছেন তা বিশে^র বিস্ময়। বর্তমানে তার এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে দুর্নীতি। এ দুর্নীতির কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এ দুর্নীতির কারণে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ হয় না। ফলে খরচ বাড়ে, জনগণের হয়রানি বাড়ে। আমলাদের একটি অংশ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠেছেন এবং তাতে জনগণের হয়রানি বাড়ছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এ অল্পসংখ্যক দুর্নীতিপরায়ণ আমলার জন্য সারা আমলাতন্ত্র বদনামের ভাগীদার হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। এ বাজেটে দুর্নীতি ও বিদেশে টাকা পাচার বন্ধের নির্দেশনা ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে। সরকারি কর্মচারীদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বার্ষিক হিসাব বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এসব ব্যাপারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করলে দুর্নীতি কমবে।’

ড. মোমেন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে, মাঠে ময়দানে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক। সাধারণ নাগরিক এখন অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে। তাই তারা সবাই জাতির আস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকের মধ্যে বড় প্রশ্ন রয়েছে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে। অধিকতর কর্মসংস্থান, রাজস্ব বৃদ্ধি ও রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও প্রশাসনের হয়রানি নিয়ে জনগণের নানা প্রশ্ন রয়েছে। দেশে যথেষ্ট কর্মসংস্থান না থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার কর্মক্ষম লোক বৈধ ও অবৈধ পথে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি সাধারণত প্রাইভেট সেক্টর করে থাকে। সেজন্য তাদের যথেষ্ট ব্যাংক ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এবারের বাজেটে ঘাটতি মেটানোর জন্য ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ঋণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।’

ব্যাংকের প্রসঙ্গ তুলে এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক ব্যাংকের বেহাল অবস্থা। বাজেটে এর প্রতিকারের কথা থাকলে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো। বরং কালো টাকাকে শতকরা ১৫ শতাংশ কর দিয়ে সাদা করার ঘোষণায় যারা সৎ করদাতা তারা হতাশ হয়েছেন। কালো টাকা সাদা করার সুযোগের পরিমার্জন প্রয়োজন বোধ করি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বার্থে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সোনার বাংলা অর্জনে, সাদাকে সাদা, কালকে কালো না বললে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি অবিচার করা হয়। অর্থমন্ত্রী বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যা যা করা প্রয়োজন তা করবেন বলে বিশ্বাস করি।’

দেশের কারাগারগুলোতে বন্দি ৬৪ হাজার : বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে ৬৩ হাজার ৮৩০ জন আটক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, কাউকে কোনো রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গতকাল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক সেভাবে মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা কিন্তু বসে নেই, আমাদের কারাগারগুলোতে প্রায় ৫০ ভাগ মাদক কারবারি আটক রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী যেখানেই পাচ্ছে মাদক কারবারিদের আটক করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ধারণক্ষমতা এখন ৪২ হাজার ৮৬৬। বিএনপি, বিরোধী দলে ছিল যারা তারা নানান ধরনের কথা বলে। তাদের নাকি ২৬ হাজার, ২০ হাজার, ২২ হাজার আটক রয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের ৬৩ হাজার ৮৩০ জন বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে। এ সংখ্যা মাঝেমধ্যে বাড়ে এটা সঠিক, কিন্তু আমরা কাউকে কোনো রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করিনি।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তাদের সুনির্দিষ্ট অপরাধে, অভিযোগে, অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসাত্মক কাজ, মানুষ হত্যা এসব অপরাধে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। যারা সন্ত্রাস করে, রাজনৈতিক ইশারায় সন্ত্রাস করে, তাদের ধরা হচ্ছে। কারাগার এটা শোধনাগার, আমরা কারাগার বলি না, আমরা এখানে সেই ব্যবস্থাই চালু করেছি। কারাগারের নতুন আইন হচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার আমরা প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় একটি জাদুঘরের মতো করছি। সেখানে বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের জাতীয় চার নেতার স্মৃতিবিজড়িত একটা অংশ থাকবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় মানুষ পুলিশ দেখলে ভয় পেত। এখন পুলিশ সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের জায়গায় চলে এসেছে। যেকোনো ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ হাজির হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস হাজির হচ্ছে। পুলিশ এখন জনগণের সেবক হয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের কাছে যায়। একইভাবে এলিট ফোর্স, র‌্যাব দক্ষতা সক্ষমতার মাধ্যমে জনগণের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের কারণে জঙ্গি দমন সম্ভব হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত