বন্যার পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

আপডেট : ২১ জুন ২০২৪, ০৭:২৬ পিএম

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আজ শুক্রবার (২১ জুন)  সকাল থেকে কোনও বৃষ্টিপাত না হওয়ার ফলে পানি আর বাড়েনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজ তা নেমে দাড়িয়েছে ৪ সেন্টিমিটারে।

জানা যায়, বর্তমানে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর ষোল ঘর পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপদসীমার মাত্র ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ ২০ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে জেলার মানুষদের মনে। তবে নদীর পানি কিছুটা কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুরসহ সাত উপজেলার ৭৮টি ইউনিয়নের এক হাজার ১৮টি গ্রাম ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে এখনও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন জেলার ১০ লাখ মানুষ। সেই সাথে জেলা সদরের সাথে এখনও সড়ক পথে যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে  তাহিরপুর উপজেলার। ছাতক, দোয়ারা বাজার, জগন্নাথপুরসহ কয়েকটি উপজেলার সাথে দূর্গম এলাকার ৪০টিরও বেশি গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনও বিছিন্ন রয়েছে।

এদিকে ব্যানার ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে পানিবন্দি মানুষরা আশ্রয় কেন্দ্রে গেলেও সেখানে গিয়ে তাদের পড়তে হয়েছে নতুন ভোগান্তিতে  আশ্রয়কেন্দ্র গুলোতে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা এখনও সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণের শুকনা খাবার পায়নি। সেই সাথে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেও প্রতিনিয়ত আমাদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। ভোগান্তির শিকার মাসুক মিয়া বলেন, পানিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। এখন ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।  বছরে বছরে বন্যার এমন ভোগান্তি কষ্টদায়ক।

হাসননগরের পানি বন্দী জমির উদ্দিন বলেন,  অনেক কষ্ট আছি। চারদিকে পানি। ছেলে-মেয়েসহ সবাই না খেয়ে আছি। পৌর শহরের বাসিন্দা জলিল মিয়া বলেন, শহর থেকে পানি কমায় ও রোদ উঠায় মনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার দেশ রুপান্তরকে জানান, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সুনামগঞ্জের নদী পানি কমে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় তিন দিন সময় লাগবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত