বাধাহীন চলুক বৈদ্যুতিক গাড়ি

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ১২:১৮ এএম

একসময় গাড়ির জ্বালানি বলতে পেট্রোল অথবা ডিজেলের কথাই মনে করা হতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। বর্তমানে পরিবেশদূষণ কমাতে অনেকেই বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) কেনার কথা বলছেন। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গাড়ি বিদ্যুতে চালানোর লক্ষ্য নিয়েছে। আর ইউরোপ-আমেরিকার রাস্তাঘাটে তো এখন ইভি চলতে দেখা যায় নিয়মিতই। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও পরিবেশদূষণ রোধে ইভি ব্যবহারে উৎসাহিত করছে সব দেশের সরকার।

প্রচুর সম্ভাবনা সত্ত্বেও বাংলাদেশে উচ্চ শুল্ক, চার্জিং স্টেশন স্বল্পতা আর ক্রয়সক্ষমতার অভাবে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। পরিবেশদূষণ কমাতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রণোদনা, শুল্কছাড়সহ নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিলেও বাংলাদেশে উল্টো এ ধরনের গাড়িতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর কারণ কী? এ বিষয়ে শুক্রবার দেশ রূপান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘বৈদ্যুতিক গাড়ির চাকায় তিন বাধা’ প্রতিবেদন জানাচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বলে সম্প্রতি ঢাকায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত এক সেমিনারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, বিনা শুল্কে মিয়ানমারে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে। নেপালে এ ধরনের গাড়ি আমদানি শুল্কহার ১০ থেকে ৬০ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী ভারতে এই শুল্ক ১৫ শতাংশ। পাকিস্তানে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ। থাইল্যান্ডে একই ধরনের গাড়ির আমদানি শুল্ক ৪০ শতাংশ। আর বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি শুল্কহার ৮৯ শতাংশ। স্থানীয়ভাবে সংযোজনের জন্য গাড়ির যন্ত্রপাতি আমদানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারবিডার সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্কমুক্ত সুবিধার পাশাপাশি সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা দেয়। সেখানে উল্টো বাংলাদেশে চড়া শুল্ক গুনতে হয়। বিশ্বের সবাই পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে চিন্তা করে আর আমাদের দেশের এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) চিন্তা করে কীভাবে আরও বেশি টাকা আদায় করা যায়। উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জিং স্টেশনও হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। চার্জিংয়ের ঝামেলার কারণেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ছে না। যেহেতু নতুন প্রযুক্তি, তাই মানুষ ভয় পাচ্ছে গাড়ি কেনার পর এর সেবা নিয়ে।’

বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো একবার চার্জে ২০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। সাধারণত বৈদ্যুতিক গাড়িতে প্রতি কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে খরচ হয় ২ থেকে ৪ টাকা, যা অন্যান্য জ্বালানি খরচের প্রায় অর্ধেক। বৈদ্যুতিক গাড়িতে থাকে না কোনো ইঞ্জিন। সম্পূর্ণ ব্যাটারিতে চলে এই গাড়ি। পেট্রোল ইঞ্জিন না থাকায় পরিবেশদূষণ হয় না। পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বাড়লে বিদেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ এবং খাত-সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, তেলচালিত গাড়ির ইঞ্জিনের দক্ষতার মাত্রা ২০ শতাংশ। আর বৈদ্যুতিক গাড়ির দক্ষতা ৮০ শতাংশ। তেলচালিত বাহনে যে দূরত্ব যেতে ১০০ টাকা লাগে, বিদ্যুৎচালিত যানে সেই দূরত্ব যেতে লাগবে ২০ টাকা। এই গাড়ির ব্যবহার কত দ্রুত বাড়ানো যায় তা নিয়ে সারা বিশ্বে একটা বিপ্লব চলছে। বাংলাদেশেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে নীতিমালা প্রণয়নসহ সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে যত গণপরিবহন আছে, সেগুলো দ্রুত বিদ্যুতে নিয়ে আসা উচিত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে খরচ কম ও পরিবেশবান্ধব। তা ছাড়া এখন যেহেতু বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, তাই চার্জিং নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না।  কোনো পক্ষের আপত্তির মুখে বিভিন্ন সমস্যা জিইয়ে রেখে সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ গাড়ি বিদ্যুতে চালানোর লক্ষ্য পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকার কি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে! তাহলে কি বৈদ্যুতিক গাড়ি বাধাহীন চলবে না?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত