বুদ্ধির জোরে

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ১২:৪৭ এএম

এখন বর্ষাকাল। যে কোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে, এমন চিন্তা মাথায় রেখে প্রায় সব শিক্ষার্থী ছাতা সঙ্গে নিয়ে স্কুলে হাজির হয়েছে। টিফিনের সময় হতে চলেছে। এমন সময় আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে।

ইসলামাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘোষণা করলেন, কাল তো পরীক্ষা শেষ হলো মাত্র, তাই আজ ১টার সময় স্কুল ছুটি দেওয়া যায়। হেড স্যারের ঘোষণা অনুযায়ী ১টার সময়  ছুটির ঘণ্টা বেজে ওঠে। সব শিক্ষার্থী যার যার মতো বইখাতা গুছিয়ে ব্যাগে ভরে ক্লাসরুম থেকে দৌড়ে মাঠে বের হয়ে যায়। এমন সময় অঝোর ধারায় বৃষ্টি নামে।

সবাই ব্যাগ থেকে ছাতা বের করে ফুটিয়ে মাথায় ধরে বাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করে। তিতুলি তার ব্যাগে খুঁজে দেখে ছাতা নেই। সে বাসা থেকে আসার সময় ছাতা নিতে ভুলে গিয়েছিল। নিরুপায় হয়ে সে আবার স্কুলের বারান্দায় উঠে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

বিষয়টি তার বান্ধবী মল্লিকা বুঝতে পেরে সেও বারান্দায় গিয়ে বলে, কিরে কী হলো তোর? বাসায় যাবি না। তিতুলি বলল, আমি তো আজ ছাতা আনিনি। এমন ঘন বৃষ্টিতে গেলে তো ব্যাগের ভেতর পানি ঢুকে বইখাতা সব ভিজে যাবে।

তখন মল্লিকা বলল, তা তো ঠিকই! আমার ছাতাও তো ছোট। এ ছাতার নিচে দুজন গেলে কারও বই খাতা রক্ষা পাবে না। তা হলে কী করা যায় এখন! সবাই তো চলে গেছে। স্কুল তো একেবারেই ফাঁকা হয়ে গেছে। স্কুলের এই বারান্দায় দুজন দাঁড়িয়ে থাকা ঠিক হবে না। চল তো দেখি রহিম চাচার দোকানে যাই, তার কাছে দেখি পলিথিনের বড় কাগজ পাওয়া যায় কিনা। রহিম চাচা চিপস তো অনেকগুলো করে কেনেন। চিপসের ছোট প্যাকেট বারোটি করে একসঙ্গে আরেকটি বড় প্যাকেটে করে চিপস কোম্পানি দোকানদারদের সরবরাহ করে। প্রতিদিন রহিম চাচা তো অনেক চিপস বিক্রি করে। তার কাছে হয়তো বড় একটি পলিথিন পাওয়া যাবে।

তিতুলি মল্লিকার বুদ্ধির প্রশংসা করে। তারপর ওরা দুজন মিলে রহিম চাচার দোকানে গিয়ে দেখে স্কুল ছুটি হওয়ার কারণে রহিম চাচাও দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন সময় ওদের দুজনকে দেখে বললেন, কী হলো মা? তোমরা দুজন এত বৃষ্টির মধ্যে ছোট এক ছাতার নিচে এখানে এলে কেন? স্কুল থেকে সবাই তো চলে গেছে!

তিতুলি বলল, চাচা আমি আজ ছাতা আনতে ভুলে গেছি। মল্লিকার ছাতাও তো ছোট। এই ছাতার নিচে দুজন গেলে দুজনই ভিজে যাব। আর বইখাতাও সব ভিজে যাবে। তাই আপনার কাছে একটু সাহায্যের জন্য এলাম, চাচা।

রহিম চাচা বললেন, আচ্ছা মা, বলো কী করতে পারি!

তিতুলি বলল, চাচা আপনি যে চিপস আনেন তার সঙ্গে তো বড় পলিথিন থাকে। চিপসের ছোট ছোট প্যাকেটগুলো বিক্রি করার পর সেই বড় পলিথিনটা তো খালিই হয়ে যায়। আমাকে তেমন একটি পলিথিন দিলে আমি এটার ভেতরে বইখাতার ব্যাগটি ভরে বৃষ্টিতে বাসায় যেতে পারতাম!

রহিম চাচা তিতুলির কথা শুনে বললেন, ঠিক আছে মা, দিচ্ছি! কিন্তু এখন বৃষ্টির দিনে ছাতা আনতে আর ভুল করবে না, কেমন? রোদ বৃষ্টি দুইয়েই ছাতা কিন্তু উপকারী বন্ধু। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া থেকে রক্ষা করে আর রোদে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। চরম রোদে ছাতা ছাড়া বের হলে হিটস্ট্রোক হতে পারে।

তিতুলি আর মল্লিকা হিটস্ট্রোকের কথা টেলিভিশনে দেখেছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তীব্র রোদে বের না সতর্ক করেছিলেন। তখন তারা এই হিটস্ট্রোক সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। তাই তারা রহিম চাচার কথায় ঘাড় নেড়ে সায় দিল।

রহিম চাচা তখন একটি বড় পলিথিন দিলেন। আর তিতুলি ও মল্লিকা তাদের স্কুল ব্যাগ তার ভেতর ঢুকিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই দুজনে এক ছাতার নিচে চলে গেল। তারা অল্প অল্প ভিজে গেলেও তাদের বুদ্ধির জোরে উভয়ের বইখাতা রক্ষা পেল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত