সেতুর অভাবে দুর্ভোগে তিন জেলার বাসিন্দা

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০১:৩২ এএম

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘিরপাড়ে পদ্মার শাখা নদীতে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লাখো মানুষ। উপজেলার দীঘিরপাড় বাজার ও দীঘিরপাড় চরের সঙ্গে একটি সেতু নির্মাণ হলে জেলার টঙ্গীবাড়ির বাসিন্দাদের পাশাপাশি উপকৃত হবে পার্শ^বর্তী চাঁদপুর ও শরীয়তপুর জেলার সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেতু না থাকায় এসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পদ্মার শাখা নদী পারাপারে এখন ট্রলারই একমাত্র ভরসা। ট্রলারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষাসহ নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।

স্থানীয়রা জানান, দীঘিরপাড় বাজারের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মার শাখা নদী। এই নদীর ওপারে রয়েছে দীঘিরপাড় চর। নদী পারাপারে একমাত্র বাহন ট্রলার। একই শাখা নদী পাড়ি দিয়ে পাশর্^বর্তী জেলা শরীয়তপুরের নওপাড়া, চরআত্রা, কাঁচিকাটা, কু-েরচর ও কোরবি মনিরাবাদ ঘড়িশাল এবং চাঁদপুর জেলার হাইমচরের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের এসব এলাকার বাসিন্দারা সহজ যোগাযোগ হিসেবে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এ পথে যাতায়াত করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তারা মূল পদ্মা পাড়ি দিয়ে দীঘিরপাড় চরে আসেন। এরপর চর থেকে ট্রলারে পদ্মার শাখা নদী পার হয়ে দীঘিরপাড় বাজারে আসেন। সেখান থেকে সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে তাদের সময় কম লাগে। মূল পদ্মা নদী ট্রলারে পাড়ি দিলেও দীঘিরপাড় বাজারের পদ্মার শাখা নদী পাড়ি দিতে ট্রলারের জন্য তাদের বসে থাকতে হয় বেশ সময় ধরে। আবার মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপার হতে খরচ পড়ে যায় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ এখানে প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু হলে তাদের দুর্ভোগ লাগব হয়।

দীঘিপার বাজারে গেলেই চোখে পড়ে ট্রলার ভর্তি করে নদীর পূর্বপাড় থেকে মানুষজন আসছেন। ট্রলার থেকে নেমে তাদের প্রয়োজনে দীঘিরপাড় বাজার, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদ, মুন্সীগঞ্জ শহর ও রাজধানী ঢাকার দিকে ছুটছেন। একইভাবে প্রয়োজন শেষে এখান থেকে ট্রলার ভর্তি করে নদীর পশ্চিম পাড়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও নদীর উত্তর এবং দক্ষিণ পাশ থেকে ট্রলার ভর্তি করে দীঘিরপাড় হাটে কেউ মালামাল বিক্রি করতে আসছেন। কেউ আবার এ হাট থেকে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। সব কিছুই হচ্ছে ট্রলারের ওপর ভরসা করে।

শরীয়তপুরের কাঁচিকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. ইয়াসিন বেপারী বলেন, ‘আমরা শরীয়তপুরের মানুষ হলেও আমাদের সব কাজকর্ম মুন্সীগঞ্জেই সুবিধা। আমাদের হাটবাজার করতে হয় দীঘিরপাড় বাজারে। ঢাকায় যাই এ পথ দিয়ে। রাত-বিরাতে ট্রলার পাওয়া যায় না। ট্রলার পেলেও ৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা গুনতে হয়। নদীপথে সময় লাগে বেশি। যদি দীঘিরপাড় বাজার এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ হতো, তাহলে আমাদের এত ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হতো না। খুব সহজে সড়ক পথে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ যেতে পারতাম।’

টঙ্গীবাড়ি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, ‘দীঘিরপাড় বাজার লাগোয়া পদ্মার শাখা নদীর ওপর ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে একটি সেতু নির্মাণ এবং নদীর পশ্চিম পাশে ৪ কিলোমিটারের একটি আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে মাটি পরীক্ষা ও সার্ভে কাজসম্পন্ন হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আশা করি আগামী বছরের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত