কমিটিবিহীন অবস্থায় চলছে এখন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি। গত ১৩ জুন সাড়ে তিন বছরের পুরনা আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর এখনো নতুন কমিটির ঘোষণা আসেনি। তাই নতুন কান্ডারি হয়ে দলের নেতৃত্বে কারা আসছেন তা নিয়ে চাউর হচ্ছে নানা কথা। তবে, দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২৯ জুনের মধ্যে কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের নামের ঘোষণা করা হতে পারে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতিমধ্যে বেশ ক’জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে ফোনে আলাপ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে অবস্থানরত বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের মতামত অধিকতর গুরুত্ব পেতে পারে। আবার কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবের রহমান শামীম ও মীর হেলাল উদ্দিনও এক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নগর বিএনপির নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। সভাপতি হিসেবে বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, একই কমিটির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও সদস্য এরশাদ উল্লাহর নাম রয়েছে নেতাকর্মীদের আলোচনায়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাজিমুর রহমান, এস এম সাইফুল আলম ও মোশাররফ হোসেন দীপ্তির নাম আলোচনায় রয়েছে।
বর্তমান সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিতে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক নেতা হিসেবে যার নাম সামনে চলে আসছে তিনি ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘদিন বন্দর নগরীতে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। কঠিন সময়েই দায়িত্ব পালন করেছেন নগর বিএনপির সভাপতি ও আহ্বায়কের। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের ইমেজের সঙ্গে তুলনা করলে এই মুহূর্তে দলীয় নেতাদের মধ্যে তিনিই এগিয়ে আছেন। আবুল হাশেম বক্করও একই সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে সবার কাছে পরিচিতি পেয়েছে। অন্যদিকে দলের সাবেক সহসভাপতি ও বিলুপ্ত কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহও দলের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাজিমুর রহমানের নামই আলোচনায় রয়েছে সবচেয়ে বেশি। দলের প্রভাবশালী একটি মহলের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি রয়েছে এস এম সাইফুল আলম ও মোশাররফ হোসেন দীপ্তির নামও। এদের পক্ষেও রয়েছে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সমর্থন। তাদের মধ্যে দলীয় হাই কমান্ডের সুদৃষ্টি কাদের ওপর পড়ে সেটির অপেক্ষায় এখন নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ কিংবা ১১ জনের কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তাদের একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া থাকবে।
নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কবে নাগাদ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। দলের দায়িত্বশীলরা এ নিয়ে কাজ করছেন। সবকিছুর ওপরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রয়েছেন। আমরা সবাই শহীদ জিয়ার আদর্শের কর্মী। সুতরাং যাদের ওপরই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে তারা সেই আদর্শকে সামনে রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবেন সেভাবেই মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি হবে। আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়টি মাথায় রেখে ত্যাগী ও পরীক্ষিতদের মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব আসবে এমনটাই মনে করছি।’
২০১৬ সালের ৬ আগস্ট ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও আবুল হাশেম বক্কর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে দুটি আহ্বায়ক কমিটিতেও ডা. শাহাদাত আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্কর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেন তারা। মোকাবিলা করেছেন হামলা-হামলা। কিন্তু দলীয় হাই কমান্ডের নির্দেশনা সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে সম্মেলন কিংবা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারা তাদের ব্যর্থতা বলেই মনে করেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ।
