‘ইউএনওর মামলা’ থেকে সাংবাদিক রানাকে অব্যাহতি

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ০২:২৭ এএম

শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে করা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। তার আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন শেরপুর জেলা ভ্রাম্যমাণ আপিল আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জেবুন নাহার।

আদালতসংশ্লিষ্টরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় (সরকারি কাজে বাধাদান) সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তা থেকে তাকে বেকসুর খালাসের ঘোষণা দেয় আদালত। সেই সঙ্গে ৫০৯ ধারা (নারী কর্মচারীকে উত্ত্যক্ত) অনুযায়ী যে অভিযোগ করা হয়েছিল, সেই ধারায় যত দিন সাজা ভোগ করা হয়েছে, তা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা হয়। শফিউজ্জামান রানা দেশ রূপান্তরের নকলা সংবাদদাতা। একটি উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ পেয়ে গত ৫ মার্চ তিনি সে বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনে নকলার ইউএনওর দপ্তরে তথ্য চাইতে যান। এ সময় সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি, অসদাচরণ এবং একজন নারী কর্মচারীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানীনের নির্দেশে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। সেখানে শফিউজ্জামানকে দুটি পৃথক ধারায় সাত মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজায় সাংবাদিক শফিউজ্জামান সাত দিন জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১২ মার্চ শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেবুন নাহার তাকে (শফিউজ্জামান) জামিনে মুক্তি দেন।

জেলা ভ্রাম্যমাণ আপিল আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. আরিফুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের প্রচলিত ধারায় মামলাটি হয়নি। ফলে সাংবাদিক শফিউজ্জামান খালাস পেয়েছেন।’

আর সাংবাদিক শফিউজ্জামানের আইনজীবী মো. আবদুর রহিম আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে ধারায় মামলাটি করা হয়েছিল, সেটি যথাযথ হয়নি।’

সাংবাদিক রানাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে তখন দেশ জুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তথ্য কমিশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তথ্য কমিশনের তদন্তের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নকলার ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানীনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সুপারিশ করে তথ্য কমিশন অভিযোগটির নিষ্পত্তি করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিহাবুল আরিফকে অন্যত্র বদলি করা হলেও নকলার ইউএনও হিসেবে বহাল রয়েছেন সাদিয়া উম্মুল বানীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত