গোপনে ইসরায়েলকে অস্ত্র পাঠাচ্ছে ইন্ডিয়া

  • গাজায় চলমান মাসব্যাপী যুদ্ধের সময় নীরবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করছে ভারত
  • ভারতের তৈরি বিস্ফোরক ও রকেট দিয়ে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০১:০৭ পিএম

গত মে মাসে অস্ত্র বহনকারী একটি ইসরায়েলগামী জাহাজকে নিজেদের বন্দরে নোঙর ফেলতে দেয়নি স্পেন। মারিয়ান ড্যানিকা নামের একটি জাহাজ ২১ মে দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব কার্টেজেনা বন্দরে নোঙর ফেলার অনুমতি চেয়েছিল।

স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইস তখন জানিয়েছিল, অস্ত্রের চালান বহন করা জাহাজটি ডেনমার্কের পতাকাবাহী। এতে ২৭ টন বিস্ফোরক উপাদান ছিল। ভারতের চেন্নাই বন্দর থেকে জাহাজটি ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে যাচ্ছিল।

এই ঘটনার সপ্তাহখানেক আগে ১৫ মে স্পেনের কার্তাজেনা বন্দরে বোরকুম নামের আরেকটি জাহাজ ভিড়েছিল। ওই জাহাজেও ভারতীয় অস্ত্র ছিল বলছে আল জাজিরা।

আল জাজিরার নথি অনুসারে, বোরকুম জাহাজটিতে ভারতের বিস্ফোরক বোঝাই ছিল এবং এটি গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

সাগরের ট্র্যাকিং সাইটগুলো পর্যালোচনা করে আল জাজিরা জানায়, জাহাজটি ২ এপ্রিল ভারতের চেন্নাই থেকে যাত্রা শুরু করে। তবে হুতির হামলা ঠেকাতে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে যাত্রাপথ এড়িয়ে আফ্রিকা ঘুরে যায় জাহাজটি।

ফিলিস্তিনি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাজ করা সংস্থা সলিডারিটি নেটওয়ার্ক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা যায়, বোরকুম জাহাজে ২০ টন রকেট ইঞ্জিন, বিস্ফোরক, ১২.৫ টন বারুদসহ রকেট, ১৫০০ কেজি বিস্ফোরক এবং কামানের জন্য ৭৪০ কেজি বারুদ এবং প্রোপেল্যান্ট ছিল।

গোপন সূত্রে জানা গেছে যে, জাহাজটির সমস্ত কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হয়েছিল যে কোন অবস্থাতেই আইএমআই সিস্টেম বা ইসরায়েলের নাম নেওয়া যাবে না। আইএমআই সিস্টেমস, একটি প্রতিরক্ষা সংস্থা যেটি ২০১৮ সালে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারক এলবিট সিস্টেমস কিনে নিয়েছিল।

তবে আল জাজিরার এসব তথ্য অস্বীকার করছে জাহাজটির সংশ্লিষ্টরা। জাহাজের জার্মান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক এমএলবি ম্যানফ্রেড লাউটারজং বেফ্রাচতুং আল জাজিরাকে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, "জাহাজটি ইসরায়েলে যাওয়ার সময় কোনও অস্ত্র বা অন্য কোনও পণ্য লোড করেনি।“

অন্যদিকে গত ২১ মে স্পেনে নোঙ্গর করতে না দেয়া ডেনমার্কের পতাকাবাহী আরেক জাহাজ মারিয়ান ড্যানিকাতেও ২৭ টন বিস্ফোরক উপাদান ছিল। যেটি ভারতের চেন্নাই বন্দর থেকে জাহাজটি ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে যাচ্ছিল।

আল জাজিরা জানায়, বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে দেখা গেছে, গাজায় চলমান মাসব্যাপী যুদ্ধের সময়  নীরবে ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করছে ভারত।

অস্ত্র ভারতে তৈরি!

চলতি মাসের ৬ জুন, গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে জাতিসংঘের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ইসরায়েলের একটি বোমা হামলার পর কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দ্বারা ফেলে দেওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অবশিষ্টাংশের একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

সেই অবশিষ্টাংশে একটি লেবেলে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল “মেড ইন ইন্ডিয়া"।

গবেষণা সংস্থা এসআইপিআরআই বলছে, ভারতীয় কোম্পানি প্রিমিয়ার এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড এমআরএসএএম এবং এলআরএসএএম ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য প্রপেলান্ট তৈরি করে থাকে যা রকেট মোটরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, কিন্তু পুরো মোটর নয়।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিও গাজার বর্তমান যুদ্ধের মধ্যে ইসরায়েলে তাদের পণ্য রপ্তানির কথা জানিয়েছে।  

আল জাজিরা আরও জানায়, ইসরায়েল গাজায় সবচেয়ে বেশি হামলা চালাচ্ছে হার্মিস ড্রোন দ্বারা। ইসরায়েল ছাড়াও ভারতে এটির কারখানা রয়েছে বলছে আল জাজিরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত চুক্তি অনুযায়ী ড্রোন রপ্তানি শুরু করেছে এবং সেগুলি বর্তমানে অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজাতে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত