ফাইনালের আক্ষেপ ঘোচালেন মার্করাম

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৪, ০৬:১২ এএম

সিডনিতে যেদিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি কেড়ে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ স্বপ্ন, প্রডাকটিভ ওভার তত্ত্বে ১৩ বলে ২২ রান থেকে হয়ে গেল ১ বলে ২১ রান, এইডেন মার্করামের জন্ম তারও ২ বছর পর। এজবাস্টনে অ্যালান ডোনাল্ড আর ল্যান্স ক্লুজনারের সেই অদ্ভুত পাগলামির দিনে তার বয়স পাঁচ বছর। ২৯ বছর বয়সী মার্করাম তার জীবনে ৬ বার দক্ষিণ আফ্রিকাকে দেখেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালের চৌকাঠ থেকে প্রত্যাখ্যাত হতে। কখনো প্রকৃতি, কখনো সাধারণ কারও অসাধারণ হয়ে ওঠা, কখনো বা ব্যাখ্যার অতীত কোনো ঘটনা। সত্যিটা হচ্ছে বর্ণবাদ প্রথা উঠে যাওয়ার পর ক্রিকেটে ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভার এবং ২০ ওভারের বিশ্বকাপ মিলিয়ে খেলেছিল ৭টি সেমিফাইনাল, যার একটিতেও জিতে ফাইনালে যাওয়া হয়নি। এইডেন মার্করামের দলটা এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটা ম্যাচ হারতে হারতে জিতে গিয়ে প্রথমবারের মতো পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনালে।

জুন ২৭, ডেল স্টেইনের জন্মদিন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেস বোলার গোটা দুনিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলের গতিতে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্টেইনের বলে ছক্কা মেরেই নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছিলেন গ্র্যান্ট এলিয়ট, যে মানুষটা দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নিলেও পরে বেছে নিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডকে। আফগানিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ফাইনালে প্রবেশের পর স্টেইন তার এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘খুবই আবেগতাড়িত লাগছে নিজেকে, আমরা ফাইনালে পৌঁছে গেছি।’ ইন্টারনেটের মিম সংস্কৃতিতে স্টেইনের সেই পড়ে থাকা আর এলিয়টের বাড়িয়ে দেওয়া হাতের ছবি হয়ে গেছে ভাইরাল, সঙ্গে ব্যাটম্যান ছবির সংলাপ, ‘আমরা কেন পড়ে যাই, কারণ আমাদের উঠে দাঁড়াতে হয়।’ দক্ষিণ আফ্রিকা বারবার হোঁচট খেয়েছে হয়তো এই ভাগ্যের সঙ্গে লুকোচুরি খেলে খেলে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আসার জন্যই। মার্করাম ম্যাচের পর বলছিলেন, ‘অনেক লোকই ঘুম থেকে জেগে আমাদের খেলা দেখছে, তাদের অনেকের চুল পেকে গেছে, এই জয়টা তাদের আরাম দেবে।’

১০ বছর আগে মার্করাম একটা বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ২০১৪ সালের সেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে একমাত্র বিশ্বকাপ; নারী, পুরুষ, যুব সব পর্যায় মিলিয়ে। আরেকটা বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে সেই প্রসঙ্গ যখন এলো, তখন মার্করাম সংবরণ করলেন আবেগ, ‘সত্যি কথা বলতে অনেক আগের কথা আর আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো নয়। একটু বিশ্বাস, একটু আত্মবিশ্বাস তো থাকবেই যেহেতু একটা পর্যায়ে হলেও আগে এমনটা করে এসেছি। সিনিয়র দলে ব্যাপারটা একদম ঠিক অবিকল নয় তবে একটা চাপ তো থাকেই যেটা সব ফাইনালেই থাকে। যদি একটু আত্মবিশ্বাস একটি বিশ্বাস আমরা নিতে পারি সেই স্মৃতি থেকে, যদি কাজে দেয় তাহলে ভালো।’ অধিনায়ক হিসেবে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে হারেননি মার্করাম, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও না আর টি-২০ বিশ্বকাপেও না। এই তথ্যটা জানানো হলে তার উত্তর, ‘আমার কোনো ধারণা নেই এ ব্যাপারে।’

বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা, এই অনুভূতিটা বাস্তবতায় মিশতে একটু সময় লাগছে মার্করামের। ‘দলটা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে আছে, একটা দল হিসেবে বিশেষ করে সাদা বলে। আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারি আর ট্রফি জিততে পারি। এটা আমাদের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার যে আমরা ফাইনালে এসেছি।’

দক্ষিণ আফ্রিকা চাপের মুখে ভেঙে পড়ে, সেমিফাইনালে পারে না...এমন অনেকগুলো প্রচলিত ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েই ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারে ফাইনালটা জিতে ট্রফি খরা ঘোচানোর গুরুদায়িত্বটা মার্করামের ওপর। নিউজিল্যান্ডও চিরকালের সেমিফাইনালের দল থেকে ফাইনালের দল হয়েছে, কিন্তু ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার এই পরিণতি না হওয়াটাও নিশ্চিত করতে হবে মার্করামকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত