যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে শেষ হয়েছে বাইডেন ও ট্রাম্পের প্রথম টেলিভিশন বিতর্ক। এতে অংশ নিয়ে বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। চার বছরের মধ্যে এই প্রথম তারা আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে একে অন্যের মুখোমুখি হলেন। বিতর্কে পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, সীমান্ত ইস্যু, সামাজিক নিরাপত্তা, চাইল্ড কেয়ার, কংগ্রেস ভবনে হামলার ঘটনা এবং গর্ভপাতসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলার সময় তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার অভিযোগ আনেন এবং পরস্পরকে তীব্র বাক্যবাণে জর্জরিত করার চেষ্টা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতি সামলানো, পররাষ্ট্র নীতির রেকর্ড ও ব্যাপক সংখ্যক অভিবাসীর বিষয়ে বাইডেনের তীব্র সমালোচনা করেন। অন্যদিকে আদালতে সম্প্রতি ট্রাম্পের সাজার প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্পকে ‘গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন বাইডেন।
তবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের যারা মনোযোগ দিয়ে বিতর্ক দেখেছেন তারা অনেকেই বলেছেন, বিতর্কে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্প। তারা বলেছেন, ট্রাম্প বিতর্কে জয়ী হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে জো বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করতে অন্য ডেমোক্র্যাটকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পত্রিকাটি।
এছাড়া দলের ভেতরের কেউ কেউ নভেম্বরের নির্বাচনের জন্য বাইডেনের পরিবর্তে অন্য প্রার্থী চাইছেন এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। বাইডেনকে 'একজন মহান সরকারি সেবকের ছায়া' হিসেবে বর্ণনা করে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় বোর্ড বলেছে, প্রেসিডেন্ট ও ট্রাম্পের মধ্যে বৃহস্পতিবারের বিতর্ক প্রমাণ করেছে যে ৮১ বছর বয়সী বাইডেন 'নিজের পরীক্ষায় ব্যর্থ' হয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, 'বাইডেন এখন সবচেয়ে বড় যে জনসেবা করতে পারেন তা হলো ঘোষণা করা যে, তিনি আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাবেন না।'
এদিকে, বাইডেনের এক শীর্ষ তহবিল যোগানদাতা তো তার পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেই ফেলেছেন, প্রেসিডেন্ট ‘অযোগ্য’ প্রমাণিত হয়েছেন। অগাস্টে দলের জাতীয় সম্মেলনের আগে বাইডনের ভোটের লড়াই থেকে সরে যেতে নতুন করে আহ্বান জানানো হবে বলে তিনি আশা করছেন।
প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সম্ভাবনাময় তিন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ তিন উপদেষ্টা বলেছেন, বিতর্ক চলার পুরো সময়টাতেই তাদের কাছে টেক্সট মেসেজের বন্যা বয়ে গেছে। এক উপদেষ্টা বলেন, তারা তাদের প্রার্থীকে বাইডেনের বিকল্প হিসাবে সামনে আনার অসংখ্য অনুরোধ পেয়েছেন।
আরেকজন উপদেষ্টা বলেন, তারা ‘বিপর্যয়’ লেখা আধা ডজনেরও বেশি টেক্সট মেসেজ পেয়েছেন তহবিল যোগানদাতাদের কাছ থেকে। এই দাতারা বলেছেন, এ বিপর্যয় সামলাতে দলের কিছু করা উচিত। তবে বাইডেন সরে না দাঁড়ালে তেমন কিছু করার নেই বলেও তারা স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ইতোমধ্যে দুই দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের ভোটাভুটি হয়েছে এবং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই বাইডেন প্রায় তার সব প্রতিপক্ষকে হারিয়েছেন। তবে এরপরও বাইডেনকে যদি সরে দাঁড়াতে হয় তাহলে বাইডেনের জায়গায় কে আসবেন এ নিয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হবে ডেমোক্র্যাটদের।
নির্বাচনী বিতর্কে এগিয়ে কে, বাইডেন নাকি ট্রাম্প?