খুলনায় এনবিআর কর্মকর্তা ফয়সালের দুই বাড়ির নামফলক উধাও

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের ঢাকার প্লট-ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাব আদালত ফ্রিজ করার পর খুলনার সহায়-সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে। হঠাৎ করে তার খুলনার বাড়ির সামনে থেকে নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনবিআরের প্রথম সচিব (কর) কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বাড়ি খুলনা মহানগরীর মুজগুন্নীতে। তার পিতার নাম কাজী আব্দুল হান্নান ওরফে ফিরু কাজী। খুলনার মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় (১৭ নম্বর রোডের সামনে ও ১১ তলার পাশে) কাজী ফয়সালের প্রায় দুই বিঘার জমির প্লট রয়েছে। এছাড়া একই এলাকার যশোর রোড়ের নেসারিয়া মাদ্রাসার পাশে তার বিলাসবহুল তিনতলা আরও একটি বাড়ি আছে। বাড়ির গাড়িঘরে একটি দামি গাড়ি থাকলেও ৪/৫টা গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে। সেখানে তার মা এখন বসবাস করেন।

গতকাল শুক্রবার বিকালে তারা বাসার গেলে তার মা দরজা খুলতে রাজি হননি। কোনো কথা বলতেও চাননি তিনি। দুটি বাড়ির গেটে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের নেম প্লেট ছিল। সেই নেম প্লেট তুলে ফেলা হয়েছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মাহফুজুর রহমান লিটন জানান, কাজী ফয়সালদের এলাকার মানুষ সম্পদশালী হিসেবেই জানে। তবে তিনি এলাকায় কম আসতেন। তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন কয়েক দফা বিলাসবহুল টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়িতে তার কাছে সনদ নিতে এসেছেন। তিনি ওই হ্যারিয়ার গাড়িতেই ঘোরাফেরা করতেন।

এদিকে, খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকায় ১১৩ নম্বর সড়কে কাজী ফয়সালের শ্বশুরবাড়ি। কাজী ফয়সালের দুর্নীতির খবর প্রকাশ হওয়ার পর হঠাৎ করে ওই বাড়ি থেকে সবাই আত্মগোপন করেছে। কেউ বাসার অবস্থানও দেখাচ্ছেন না। গত বৃহস্পতিবার রাতে কাজী ফয়সালের শ্বশুর বাড়ির নাম ফলক খুলে ফেলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। জব্দের আদেশ হওয়া সম্পদের মধ্যে আছে—কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের ঢাকার একটি ফ্ল্যাট ও ১০ কাঠার দুটি প্লট। এছাড়া তার ও তার স্ত্রীসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র অবরুদ্ধ করেছেন আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত