পাকিস্তান তাদের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘আযম-ই-ইসতেহকাম’ নামের নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে। উর্দু এ নামের অর্থ স্থিতিশীলতা। এতে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশ্লেষকরা এমন আশঙ্কা করছেন বলে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে।
গত দুই বছরে পাকিস্তানে সহিংস হামলার ঘটনা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। চলতি বছর অন্তত ৬২ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ১৩ হাজারের বেশি অভিযানে ২৪৯ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত এবং ৩৯৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। তাহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) গোষ্ঠী সহিংস হামলাগুলোর অধিকাংশের দায় স্বীকার করেছে। তারা পাকিস্তানের সরকার উৎখাত করতে এবং ইসলামের সবচেয়ে কট্টর ব্যাখ্যার মাধ্যমে শাসন করতে চায়।
আদর্শগত দিক থেকে আফগান তালেবানের সঙ্গে টিটিপির মিল রয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর থেকে ইসলামাবাদও বারবার অভিযোগ করছে, পাকিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। আফগান তালেবান অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত। সেখানে টিটিপি ও তাদের স্থানীয় সংগঠন ইসলামিক স্টেট সক্রিয় আছে। পাকিস্তানের নতুন পরিকল্পনায় দেশের ভেতরের পাশাপাশি সীমান্তের ওপারে আফগানিস্তানেও অভিযানের কথা বলা হয়েছে। তাদের সার্বভৌমত্বের চেয়ে অন্য কিছু বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের লক্ষ্যে নেওয়া নতুন সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানে হামলা অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান। এদিকে নতুন অভিযানের কারণে ইসলামাবাদের সঙ্গে তালেবান সরকারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের মাদিহা আফজাল বলেন, ‘নতুন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এমন একসময় পরিচালনা করা হচ্ছে, যা অন্য আরও কারণের প্রতিফলন মনে হচ্ছে। পাকিস্তান টিটিপির সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সব বিকল্প চেষ্টা করে ফেলেছে এবং এখন আফগান তালেবানকে টিটিপির ওপর চাপ দিতে বলছে।’ তার মতে, টিটিপির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা এবং গোষ্ঠীটির ওপর চাপ প্রয়োগে কাজ হয়নি। গত মার্চে আফগানিস্তানে অবস্থান করা পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসলামাবাদ। এতে আটজন নিহত হয় এবং আফগান বাহিনী সীমান্তে পাকিস্তানের দিকে গুলি করে। সাধারণত এ ধরনের হামলা চালায় না দেশটি।
পাকিস্তানে সবাই অবশ্য সামরিক অভিযানের পক্ষে নন। দেশটির কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে জানান, তিনি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর বিপক্ষে।
