গাজায় ৯ মাস ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেও ইসরায়েল বলতে পারছে না এই যুদ্ধে তারা জিতেছে। অন্তত আরও একজন মানুষকে মারতে মরিয়া তারা। কেবল তার লাশই ইসরায়েলকে বিজয়ের নারকীয় তৃপ্তি এনে দিতে পারে। ইসরায়েলের গোয়েন্দারা, তাদের পুরো সামরিক কাঠামো হন্যে হয়ে খুঁজছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদল হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে।
ধারণা করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারাও এ কাজে ইসরায়েলকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। কিন্তু গাজা যুদ্ধের ৯ মাস পরও সিনওয়ার কীভাবে ইসরায়েলের বুলেট এড়িয়ে এখনো তার গেরিলাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন, সেটা আধুনিক যুদ্ধ ইতিহাসের এক বিস্ময় হয়ে উঠেছে।
গাজা মাত্র ১৪১ বর্গমাইলের একটি জায়গা। লোকসংখ্যা ২০ লাখের মতো। এ রকম একটা পরিসরে সিআইএ এবং মোশাদের মতো দক্ষ গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে মাসের পর মাস লুকিয়ে থাকা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু ইয়াহিয়া সিনওয়ার এখনো বিস্ময়করভাবে বেঁচে আছেন। জীবিত আছেন তাঁর আহত প্রধান সহযোগী মোহাম্মদ দায়েফও।
হামাসের সূত্রের বরাতে লন্ডন ভিত্তিক সংবাদপত্র আশরক আল-আওসাত জানিয়েছে, হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার কোথায় আছেন, তা মাত্র দুই বা তিনজন মানুষ জানেন। তাদের বাইরে আর কেউ তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত না।
একটি সূত্র সংবাদপত্রটিকে বলেছে, খুব ছোট একটি সার্কেল ইয়াহিয়া সিনওয়ারের অবস্থান সম্পর্কে জানে। এই সার্কেলে দুই বা তিনজনের বেশি মানুষ নেই। তারাই তার বিভিন্ন বিষয়ে দেখভাল করেন। দেশ ও দেশের বাইরে হামাসের অন্য নেতাদের সঙ্গে সিনওয়ারের যোগাযোগ নিশ্চিত করেন।
ওই সূত্র আরও জানায়, হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের অনেক নেতাকে নিশানা করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল। তবে দেশটি তাদের কয়েকজনকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। কেউ কেউ বেঁচে গেছেন। বিভিন্ন এলাকা ও স্থাপনায় বোমা হামলা হলেও তারা অক্ষত থাকেন। তবে তাদের মধ্যে সিনওয়ার ছিলেন না।
তবে সিনওয়ার এখন গাজার ওপরে নাকি সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করছেন, সূত্রটি তা স্পষ্ট করেনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। যদিও টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সপরিবারে গাজার একটি টানেলের ভেতরে সিনওয়ার হাঁটছেন, এমন একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এখন প্রশ্ন হলো, সিনওয়ারকে হত্যা করা হলে তার বাহিনী কি কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি আর মেনে নেবে? আবার এ–ও সত্য, তখন তাদের প্রতিরোধের তীব্রতা সাময়িকভাবে হলেও কমে আসতে পারে। কিন্তু নিশ্চিতভাবে অন্য কোনো সিনওয়ার এসে আবার মাতৃভূমি উদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে কাজে নেমে পড়বে। ফিলিস্তিনিদের অতীত ইতিহাস সে রকমই।
২০০৪ সালে ইয়াসির আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যার পর মনে হয়েছিল, এই জনগোষ্ঠী আর দখলদারত্বের বিরুদ্ধে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু গাজা যুদ্ধ সেটাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। ইয়াহিয়া সিনওয়ারও নিশ্চিতভাবে শেষ ফিলিস্তিনি বীর নন। এমনকি নিহত হলেও তিনি ভবিষ্যতের সিনওয়ারদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।
শাশুড়ির রান্না খেতে আপত্তি, যুবকের সঙ্গে যে কাণ্ড স্ত্রীর