প্রধানমন্ত্রীর স্পেন সফরে গুরুত্ব পাবে রাজনৈতিক সম্পর্ক

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:০১ এএম

প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সফরে স্পেন যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটির সরকারপ্রধানের আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২২ জুলাই এই সফরটি হতে পারে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্পেন সফর করেছেন।

স্পেনে প্রধানমন্ত্রীর এই দ্বিপক্ষীয় সফর ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

সূত্রগুলো বলছে, এই সফরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো, বিনিয়োগ, অভিবাসন এবং বিশ্বে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ স্পেনের সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়াতে চায়। এ ছাড়া স্পেনেরও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরিতে আগ্রহ রয়েছে। বৈশ্বিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চায় ঢাকা-মাদ্রিদ।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্পেন সফর দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। প্রধানমন্ত্রীর স্পেন সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা। তারা মনে করে, স্পেনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে স্বাধীনতার পর থেকেই দাতা-গ্রহীতা সম্পর্ক ছিল। ১৫ বছর ধরে সেই সম্পর্ক পরিবর্তিত হয়ে এখন উন্নয়ন সহযোগীর রূপ নিয়েছে।

এই কূটনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৫ বছর ধরে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর উদ্যোগ নেয়। এ সময় সরকার ইইউর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দুই পক্ষ থেকে অনেকগুলো সফর হয়েছে।

শহিদুল হক জানান, গত ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন। ইতিমধ্যে এসব সফরের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে গত বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ঢাকা সফর করে গেছেন। স্বাধীনতার পর ফ্রান্সের কোনো প্রেসিডেন্টের সেটি ছিল প্রথম বাংলাদেশ সফর।

কূটনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, গত ১৫ বছরে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন দিক তৈরি হয়েছে। আগে সম্পর্কটা ছিল দাতা-গ্রহীতার সম্পর্ক। এখন বিভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে। ইউরোপ ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে স্পেনের অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রধানমন্ত্রীর স্পেন সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের যে স্বার্থ রয়েছে, সেটিও ভালোভাবে রক্ষা করা যাবে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এই সফরে রাজনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপরও জোর দেবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হবে স্পেনকে। বর্তমানে স্পেন থেকে বিনিয়োগ সরাসরি কম। তবে বিদ্যুৎ খাতে স্পেনের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ রয়েছে। অন্তত ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এসব কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর স্পেন সফরে অভিবাসী ইস্যুটিও প্রাধান্য পাবে। বর্তমানে ওই দেশে সাত হাজারেরও বেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইইউ দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া অন্য দেশগুলোয়ও বাংলাদেশিরা বসবাস করছেন। স্পেন বরাবরই অভিবাসনবান্ধব দেশ। সেখানে অভিবাসীদের কাজ করে টিকে থাকার সুযোগ বেশি।

এদিকে ছয় বছর ধরেই ইইউ দেশগুলোয় অবৈধভাবে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান। অনেক দেশ এর মধ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠিয়েছে এবং অবৈধ বাংলাদেশিরা সেসব দেশে কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই থাকছে। কিন্তু স্পেন থেকে এখনো কোনো অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়নি। এমনকি সে দেশ থেকে অনুরোধ করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত