গাজা ইস্যুতে লেবারের ভোট বাক্সে টান

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১২:০৪ এএম

যুক্তরাজ্যের সদ্য শেষ হওয়া ভোটের প্রভাবক হিসেবে যে সাতটি বড় বিষয় আলোচনায় ছিল, তার একটি ছিল গাজা ইস্যু। ভোটের পর দেখা গেল প্রত্যাশার চাইতেই বেশি প্রভাব রাখতে পেরেছে ইস্যু। এবার সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বিপুল আসনেও জিতলেও দলটির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু এলাকায় তাদের প্রার্থীরা গাজাপন্থি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন। আরও অনেকে পড়েছেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ১০ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোট আছে এমন আসনগুলোতে লেবার পার্টির ভোট কমেছে গড়ে ১১ শতাংশ।

বিবিসি বলছে, যেখানে মুসলিম ভোটার বেশি সেখানেই লেবার খারাপ করেছে। লেবার অধিক মুসলিম জনগোষ্ঠী আছে এমন পাঁচটি আসনে হেরে গেছে। এর মধ্যে চারটিতে স্বতন্ত্র আর একটিতে কনজারভেটিভ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, লেবার পার্টির জন্য বড় আঘাত হলো শ্যাডো মিনিস্টার জনাথন অ্যাশওয়ার্থ লেস্টারের সাউথ আসনে হেরে যাওয়া। যেখানে আগে প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছিলেন তিনি। সেখানে এবার তিনি জিততেই পারলেন না। অথচ তাকে কোনো এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল দলের।লেস্টার সাউথ আসনে শোকাত অ্যাডাম ৯৭৯ ভোটে জয়ের পর ঘোষণা করেছেন ‘এটা গাজার জন্য’। এই আসনে ৩০ শতাংশ ভোটার মুসলিম। ১৩ বছর ধরে অ্যাশওয়ার্থ আসনটি ধরে রেখেছিলেন। কাছেই লেস্টার ইস্ট আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কয়েক হাজার ভোট পাওয়ায় সুবিধা পেয়েছেন কনজারভেটিভ প্রার্থী। বিশেষ করে সাবেক লেবার এমপি ক্লাউডিয়া ওয়েব্বের এলাকায়। ওয়েব্বে হয়রানির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তবে তিনি ফিলিস্তিনপন্থি হিসেবে সোচ্চার কণ্ঠ। তার সাবেক আসনে টোরি প্রার্থী জয় পেয়েছে ৪৪২৬ ভোটে, যা ওয়েব্বের প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে কম। বার্মিংহামের পেরি বার এলাকা লেবারের খালিদ মাহমুদ ৫৭০ ভোটে হেরে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়ুব খানের কাছে। আসলে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যারা গাজাকেই তাদের প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন তারা ডিউজবুরি, বাটলে, ব্ল্যাকবার্ন এলাকায় জয়ী হয়েছেন, যেখানে আগে লেবার পার্টির ভালো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। মুসলিম জনগোষ্ঠী বেশ বড় এমন আরও কিছু এলাকায় সিনিয়র লেবার নেতারা খুব অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পেরেছেন।

ইলফোর্ড নর্থে শ্যাডো স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আগে জয়লাভ করেছিলেন ৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে। এবার তার জয়ের পার্থক্য মাত্র ৫২৮ ভোট। ইলফোর্ড নর্থে স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়ানে মোহামাদ, যিনি একজন ফিলিস্তিনি শরণার্থীর নাতি। এমন আরও অনেক প্রার্থীই যারা আগে বিপুল ব্যবধান নিয়ে জয় পেয়েছেন এবার তারা পড়েছিলেন চ্যালেঞ্জের মুখে। আর তার অন্যতম কারণ হচ্ছে গাজা ইস্যু।

গাজা দ্বন্দ্বের বিষয়ে অবস্থানের জন্য লেবার পার্টির ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত