সংস্কারকাজের অনিয়ম ধরতে স্কুলে এমপি আসাদ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ০২:১৫ এএম

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ তথ্য জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ গতকাল শনিবার সকালে ওই স্কুলে যান। সেখানে সংস্কারকাজে বিভিন্ন অসংগতি ও অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আসাদ। 

মোহনপুর এলজিইডি অফিসের তথ্যমতে, কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কারের জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই কাজ পায় রাজশাহীর মেসার্স আলখাল্লা এন্টারপ্রাইজ। তারা এরই মধ্যে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে তুলে নিয়েছে বিল।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলে টাইলস, রঙ, থাই গ্লাস ও স্টেজের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তিন মাস না যেতেই রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। দেয়ালে ধরেছে ময়লা। ময়লার ওপরেও দেওয়া হয়েছে রঙ। এ ছাড়া মূল ফটকে রঙ দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি পুরোপুরি করা হয়নি। এত কিছুর পরও প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের সব কাজ বুঝে পেয়েছেন বলে স্বাক্ষর করেছেন। এতে সহজেই বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে স্কুলে এমপি আসার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সেখানে হাজির হন। এমপি ওই স্কুল ঘুরে দেখেন এবং সংস্কারকাজের মান দেখেন। পরে এমপি আসাদ বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে যারা আছেন তারা যদি এই কাজগুলো ঠিকভাবে বুঝে না নেন তবে আমি তো মনে করি ঠিকাদারের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ আছে। অথবা না বুঝেই করেছেন। এটার দায়দায়িত্ব তো তাদেরই নিতে হবে। যারা কাজ করেছেন তাদের ডাকা হবে। এটি নিয়ে সমস্যার সমাধান হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যে অনিয়ম পেয়েছি সেগুলো ঠিক করতে বলেছি। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। এটি মানুষের কষ্টে অর্জিত টাকা। এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’ 

এ বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহিদুজ্জামান বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে আমাকে দেখিয়ে দিয়েছেন আমি সেভাবেই বুঝে নিয়েছি। আমি তো আর কাজের কিছু বুঝি না। বরাবরই রঙের বিষয়ে অভিযোগ করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে মোহনপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোসা. নুরনাহারের ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। মোহনপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা বলেন, ‘এমপি স্যার একটি অভিযোগ নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। আমরাও দেখেছি। এটি ইউএনও স্যার তদন্ত করে দেখবেন। তিনি এখন ছুটিতে আছেন।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. ইমন বলেন, ‘আমরা নিয়মমাফিক কাজ করেছি। তারপরও যদি অভিযোগ থাকে ইঞ্জিনিয়ার আছেন, তিনি যাবেন। কোনো কাজের সমস্যা হলে আবারও তা করে দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত