নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ এএম

মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ডিঙি নৌকার চাহিদা। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আর চলাচল নৌকা ছাড়া অনেকটাই অচল। তাই নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বিভিন্ন এলাকায়। আর নৌকার ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝিটকা হাট।

এই হাটে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার নৌকা বেচাকেনা হয়। তবে শনিবার সাপ্তাহিক হাটে সবচেয়ে বেশি নৌকা বেচাকেনা হয়। প্রতি হাটে ২০০ থেকে ৩০০ নৌকা বেচাকেনা হয়। গত কয়েক দিনে নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নৌকা তৈরি। নৌকা তৈরিকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কাঠমিস্ত্রি ও কারিগররা। নতুন নৌকা তৈরির পাশাপাশি পুরাতন নৌকা মেরামতের কাজও করছেন তারা। বর্ষা মৌসুমে উপজেলার জেলে সম্প্রদায়ের লোকেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করেন।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নৌকা তৈরির জন্য কাঠমিস্ত্রিরা কেউ কাঠ চিরাচ্ছেন, কেউ রান্দা দিয়ে কাঠ মসৃণ করছেন, কেউ কেউ তারকাঁটা ও লোহার পাত দিয়ে তক্তা জোড়া লাগানোর কাজে ব্যস্ত।

নৌকা তৈরির কারিগর উপজেলার গালা ইউনিয়নের ঝিটকা বাজারের রুবেল মিয়া বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নৌকার চাহিদা বেড়েছে। ছোট ডিঙি নৌকার অর্ডার বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তবে সব সাইজের নৌকাই তৈরি হচ্ছে। ছোট ডিঙি নৌকা সাধারণত ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নৌকার আকারের ওপরে এর দাম নির্ধারিত হয়।

নৌকা তৈরির কারিগর অলক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বর্ষার সময় নৌকা তৈরি করি। বড় নৌকার চেয়ে ছোট ডিঙি ও কোশা নৌকার চাহিদা বেশি। এতে প্রতিটি ১০ থেকে ১২ হাতের নৌকা বানাতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করা যায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়।’

একই এলাকার কাঠমিস্ত্রি গোবিন্দ বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। তাই বর্ষার সময় নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সারা বছর নৌকা তৈরি ছাড়াও ঘর, খাট, চেয়ার, টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, আলমারি ইত্যাদি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন তারা। তিনি আরও বলেন, একটি ছোট নৌকা তৈরি করতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগে এবং ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। হাটে একটি ছোট নৌকা ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়।

নৌকা কিনতে আসা আসলাম মিয়া বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি খুবই নিচু। সামান্য বর্ষাতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। বর্ষার সময় একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। বানের পানি নদী দিয়ে খাল-বিলে ঢুকতে শুরু করছে। তাই নৌকা কিনতে এসেছি। নৌকার দাম ঠিক আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে একটু কম দামেই নৌকা ক্রয় করতে পেরেছি।’

উপজেলার ঝিটকা বাজারের নৌকা ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর পানি না হওয়ায় ব্যবসায় লোকসান হয়েছে। আশা করছি এবার পানি বেশি হলে কিছুটা হলেও ব্যবসার অবস্থা ভালো হতে পারে। সর্বোপরি আমাদের ব্যবসাটা মূলত পানির ওপর নির্ভর করে। পানি বেশি হলে নৌকার চাহিদা বাড়ে। এতে করে বিক্রির পরিমাণও বাড়ে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত