জায়গার সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে গরম পানি ছুড়ে মেরে বড় ভাইয়ের শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৬ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাটহাজারী থানাধীন ১ দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড়দিঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম (৫০) স্থানীয় ডাক্তার হুমায়ুনের বাড়ির মৃত হামদু মিয়ার ছেলে। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে চতুর্থ শ্রেণির সিভিল স্টাফ হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযুক্ত ছোট ভাইয়ের নাম শাহ আলম।
গত শনিবার দুপুরে বসতঘরের সীমানা নিয়ে প্রতিবেশী ছোট ভাই শাহ আলমের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খোরশেদের শরীরের ওপর গরম পানি ছুড়ে মারেন শাহ আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন প্রতিবেশীরা। বর্তমানে খোরশেদ আলম চমেক হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গরম পানিতে খোরশেদের মাথা, চোখ, মুখ, বুকসহ শরীরের ৮ শতাংশ ঝলসে গেছে। তার শারিরীক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী গোলতাজ বেগম হাটহাজারী থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গোলতাজের অভিযোগ, বসত ঘরের সীমানা নিয়ে তার দেবর প্রতিবেশী শাহ আলমের সঙ্গে তার স্বামী খোরশেদ আলমের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে অনেক সালিস হয়েছে। শাহ আলম কাউকে মানেন না। আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করে তাদের হয়রানি করছেন শাহ আলম।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী খোরশেদ আলমের স্ত্রী গোলতাজ বেগম জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার স্বামী নিজ বসত ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। বারান্দার দক্ষিণ পাশের দেয়ালের কিছু অংশ নিজের দাবি করে কিছুদিন আগে জোরপূর্বক ভেঙে ফেলে শাহ আলম। ভেঙে ফেলা ওই অংশ দিয়ে তার স্বামীকে লক্ষ্য করে এক হাঁড়ি গরম পানি ছুড়ে মারে শাহ আলম। মুহূর্তেই শরীর ঝলসে গেলে যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন খোরশেদ। এ সময় তার চিৎকারে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। এরপর দ্রুত তার স্বামীকে নিয়ে আসা হয় চমেক হাসপাতালে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোমবার বিকাল ৩টার দিকে শাহ আলম তার আপন বড়ভাইয়ের শরীরে গরম পানি ঢেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করে উল্টো খোরশেদের বিরুদ্ধে তাকে এবং তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, গেল শনিবার বড় ভাই খোরশেদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাতে আঘাত করেন। তার স্ত্রী ওপর নির্যাতন করেন খোরশেদ। বসত ঘরের সীমানা নিয়ে খোরশেদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৪৫ ধারার মামলা দায়ের আছে বলে জানিয়ে শাহ আলম বলেন, ‘তিনি (খোরশেদ) নিজেই আমার জায়গা দখল করেছেন।’
