শুকনোয় সেচ সংকট বর্ষায় জলাবদ্ধতা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ০৬:৪১ এএম

মাস দুয়েক আগেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের যে জমি ছিল শুকনো, সেই জমি এখন পানির নিচে। শুকনো মৌসুমে সেচের অভাব, আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানি ঢুকেছে বাড়িঘরে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২০২০ সালে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কিন্তু ২০২১ সালেই পানির তোড়ে খালে তলিয়ে যায়। ফলে আবার মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়। আর ২০২১ সাল থেকে এলাকার অন্তত ৬০০ একর ফসলি জমি পতিত থাকছে।

ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব সীমান্তে শিকলবাহা খাল। সেই খালের শাখা বাকখাইন কান্দরিয়া খালের মুখে নির্মিত হয় স্লুইসগেটটি। কিন্তু বছর না যেতেই পানির তোড়ে স্লুইসগেটটি তলিয়ে যায় ও এর দুই পাশের বাঁধ ভেঙে ৩০০ ফুট দীর্ঘ খালের সৃষ্টি হয়। এতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ও বর্ষা মৌসুমে ঢলে নিমজ্জিত আনোয়ারার চাতরী ইউনিয়নের কেঁয়াগড়, সিংহরা, চাতরী, ডুমুরিয়া, পশ্চিম কৈন্যরা ও পটিয়া উপজেলার বাকখাইন গ্রামে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এই ছয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়াতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইসগেটটি নির্মাণ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন সেন বলেন, স্লুইসগেটের ওপর দিয়ে হেঁটে পটিয়ার বাকখাইন গ্রামের মানুষ আনোয়ারা উপজেলা সদরে যাতায়াত করত। এখন শিকলবাহা খাল পাড়ি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া সøুইসগেট না থাকার কারণে পানি ঢুকে পড়ায় চাতরী ইউনিয়নের পাঁটি গ্রামে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। লবণাক্ত পানিতে এসব গ্রামের পুকুরগুলো ডুবে যাওয়ায় এলাকাবাসী তা ব্যবহার করতে পারছে না।

কৃষকরা বলছেন, স্লুইসগেটটি ভেঙে পড়ায় গত ৩ বছর ধরে চাষাবাদ হচ্ছে না। বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে আর শুকনো মৌসুমে খালের লবণাক্ত পানি সেচকাজে ব্যবহার করা যায় না। পুকুরগুলোও পানিতে ডুবে মাছ ভেসে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রমজান আলী বলেন, স্লুইসগেটটি ভেঙে যাওয়ায় লবণাক্ত পানি ঢুকে আর বর্ষার ঢলের পানিতে তলিয়ে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাতরী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে চাষাবাদ হচ্ছে না। এটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে এসব এলাকায় অন্তত ৫০০ একর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল বলেন, স্লুইসগেট না থাকায় পানিতে নিমজ্জিত এসব গ্রামের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাটের ক্ষতি হচ্ছে। ভেসে যাচ্ছে পুকুরের মাছ। কৃষিজীবী মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।

আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গত মাসের সমন্বয় সভায় কান্দরিয়া খালের স্লুইসগেটের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেন। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে স্লুইসগেটের নির্মাণকাজ শুরু হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম দাশ জানান, কান্দরিয়া খালে স্লুইসগেটটি আগের চেয়ে বড় আকারে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বছরের শেষের দিকে হয়তো টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত