বন্যার মধ্যেই সিলেট বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০২:০০ এএম

সারা দেশে গত ৩০ জুন এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও ভয়াবহ বন্যার কারণে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। এই বোর্ডের অধীন ৪ জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি না হলেও গতকাল মঙ্গলবার থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

গতকাল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ৭২৩ জন পরীক্ষার্থী। আর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭০ হাজার ৫৬৯। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুপস্থিতির এই সংখ্যা খুব উদ্বেগজনক না হলেও ৩ দফায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যার কারণে সার্বিকভাবে সিলেট বিভাগের পরীক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষক-অভিভাবকরা। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, বন্যার কারণে তারা ঠিকমতো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেননি। সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, পরীক্ষা যেসব কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে, এর কোথাও কেন্দ্রের ভেতরে পানি নেই। কিছু কেন্দ্রে প্রবেশের সড়কে পানি আছে, তবে পরীক্ষার্থীরা যাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর যেসব কেন্দ্রের ভেতরে পানি আছে, সেসব কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। 

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, কলেজে প্রবেশের সড়কটি এখনো বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। সেই সড়কের একপাশে বালুভর্তি বস্তা ফেলে কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। আর বস্তার ওপর দিয়েই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, ‘বন্যার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষা আরও কিছুদিন পিছিয়ে দিলেই ভালো হতো। অনেক পরীক্ষার্থীর বাড়িঘরে পানি উঠেছে। তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারেনি।’ 

দক্ষিণ সুরমা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘কলেজের প্রবেশপথে পানি থাকলেও পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে। এই বস্তার ওপর দিয়ে তারা যাতায়াত করতে পারবেন। এ ছাড়া কলেজের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষেও পানি রয়েছে, সেগুলোতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না।’

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক অরুণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিছু কেন্দ্রের আশপাশে পানি থাকলেও ভেতরের পানি নেমে গেছে। তাই পরীক্ষা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।’

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৩০৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮২ হাজার ৭৯৫ জন শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৩৩ হাজার ৫৯০ ও ছাত্রী ৪৯ হাজার ২০৫ জন।

এদিকে সুনামগঞ্জে দুই দফা বন্যার পর পানি নামলেও কমেনি ভোগান্তি। এখন পর্যন্ত হাওর বা সুনামগঞ্জের সুরমা কুশিয়ারা যাদুকাটা বৌলাই নদীর পানি তীরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে। সকালে বৃষ্টি থাকার কারণে কাক ভেজা হয়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গেছেন। বন্যার কারণে ভালো করে প্রস্তুতিও নিতে পারেননি এ বছরের সুনামগঞ্জের পরীক্ষার্থীরা। অনেক পরীক্ষার্থী বন্যার সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে তেমন প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তাহিরপুর উপজেলার তাহিরপুর সরকারি কলেজের চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আশফাক মিয়া বলেন, ‘মাত্র বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমেছে। আমাদের প্রস্তুতি নেওয়াটা কঠিন ছিল। একবার নয় দুই-দুইবার আমাদের বন্যার ধকল পোহাতে হলো।’

চলতি বছর সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষায় সুনামগঞ্জ জেলায় ১৩ হাজার ৩১২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে অংশগ্রহণ করেছেন ১৩ হাজার ১৫৬ জন। প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ১৫৬ জন।

আলিম পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা ছিল ১ হাজার ২৬ জন পরীক্ষার্থীর, এর মধ্যে অংশ নিয়েছেন ৯৯৯ জন। প্রথম দিনে পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৭ জন।

এইচএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা ছিল ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থীর, এর মধ্যে প্রথম দিন অংশ নিয়েছে ৬৭৫ জন। ১০ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছেন ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুনামগঞ্জে সুষ্ঠুভাবে চলতি বছরের প্রথম দিনের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট লোকজন খুবই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, ফলে কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত