লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ ফলকন এলাকার বয়োবৃদ্ধ ছাকেনা বিবি (৮৭) দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতা পেলেও হঠাৎ তা বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নির্বাচন অফিসের তালিকায় তিনি ‘মৃত’। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ‘মৃত নন, জীবিত’ লিপিবদ্ধ করতে নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছেন তিনি।
বিবি ছাকেনা স্বামীকে হারিয়েছেন ৩০ বছর আগে। মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে চারবার হারিয়েছেন ভিটেমাটি। আট সন্তানের জননী তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী, তার বয়স ৮৭ বছর। তার বাড়ি কমলনগর উপজেলার দক্ষিণ ফলকন (বর্তমান পাটোয়ারীর হাট) ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ তিনি। এখন আর তেমন হাঁটাচলা করতে পারেন না। চোখেও দেখেন না খুব একটা। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়।
বিবি ছাকেনা বলেন, ‘বয়স্ক ভাতার টিয়া পাইতাম, ওহন হুনি আমি মইরা গেছি। এহন টিয়া পাই না। উপজিলায় কতবার আইছি, কিন্তু কোনো কাজ হয় না।’
বিবি ছাকেনার ছেলে মো. ফারুক জানান, তাদের বাড়ি মেঘনার ভাঙনে চারবার বিলীন হয়েছে। তারা নদীতে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন। নদীর ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পুরনো বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে রামগতির ছেউয়াখালীতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। দুবছর আগে তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোটারের স্থান পরিবর্তন করতে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার জীবিত মা বিবি ছাকেনাকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা পাটোয়ারীর হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্রসহ আমাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে বলেছেন। সে অনুসারে কাগজপত্র জমা দিয়ে মাকে তালিকায় জীবিত দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জায়েদুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘গণভোটার করার সময় এ সমস্যা হয়েছে। এ সময় এলাকাগুলো ভিজিট করে স্থায়ীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মৃত ব্যক্তিদের তথ্য নেন কর্মকর্তারা। বিবি ছাকেনার বাসস্থান পরিবর্তন হওয়ায় সম্ভবত ২০১৯-২২ সালের গণভোটারের তালিকায় তথ্য আসে তিনি মৃত। তবে আবেদন পাওয়ার পর তাকে জীবিত দেখানোর কাজ চলছে।’
