শরীয়তপুর ১০ ছাত্রলীগ নেতাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ উজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ১০ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ওই দশ নেতা ছাত্রলীগের নীতি আদর্শ, শৃঙ্খলা পরিপন্থী এবং সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কার্যক্রমে জড়িত আছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও বহিস্কার হওয়া নেতাদের অভিযোগ কোটার বিপক্ষে কথা বলায় বহিস্কার হয়েছেন তারা।
বহিষ্কার ও অব্যাহতি পাওয়া দশ নেতা হলেন- শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন রাফি, সহ-সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর আলম রনি, দপ্তর সম্পাদক মো. ফাহাদ হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য এইচএম ওয়াসিম মাদবর, ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অন্তর মাদবর, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা ৯নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি জয় মাদবর, মহিষার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান হাওলাদার, গোসাইরহাট উপজেলার ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌসিফ আহমেদ।
অব্যাহতি পাওয়া শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন রাফি ফেসবুকে লিখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, কোটার বিপক্ষে কথা বলার জন্য ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার। যে কমিটিতে রাখছিলেন তার পরিচয় কখনো কারও কাছে বলিও নাই। হইতাম পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক, পাহাড়দের সাথে দল করি দেখে আমাকে বাদ দিলেন। ঐ দিন থেকেই তো আমার আশা ভরসা শেষ হয়ে গেছে।‘
তিনি আরও লেখেন, ‘ন্যায় যেটা তাই বলছিলাম, বাংলাদেশে কোটা থাকবে না। এইটাই দোষ। আপনাদের মতন না, আপনারা ছাত্রলীগের সাইনবোর্ড দেখিয়ে অনেক কিছুই করে নিয়েছেন। আমি বলতে পারব ছাত্রলীগ করে মানুষের ধান কেটে দিছি, যতটুকু পারছি অসহায় মানুষের পাশে করোনাসহ সবসময় ছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে কোনো ধান্দা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, করিনি।‘
পোস্টে তিনি বলেন, ‘আজকে যারা আমাকে অব্যাহতির স্বাক্ষর দিয়েছে, তাদের যেন আগে অব্যাহতি নিতে হয়। কারণ তাদের তো ছাত্রত্বই নেই। আল্লাহর কাছে দোয়া রইল আপনারা যেন আমৃত্যু ছাত্রলীগের নেতা থাকেন। আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি ওই লিস্টে উল্লেখ করে দেন যে, সত্যের জন্য বলা কথা, কোটা থাকবে না তার বিরুদ্ধে পোস্ট করার জন্য এবং ছাত্রলীগ সাধারণত শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর অত্যাচার করছে, পুলিশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের গুলি করে হত্যা করেছে এইসব কারণে ছাত্রলীগ থেকে বোরহান উদ্দিন রাফি অব্যাহতি নিয়েছে।‘
জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার কারণে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতির পর থেকে তাদের কোনো কর্মকাণ্ডের দায়ভার ছাত্রলীগ বহন করবে না।‘
অব্যাহতি পাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে। এরসঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।‘
