বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাহাত্তরের সংবিধানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গড়ে উঠেছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আর বাহাত্তরের সংবিধান আমাদের সেই স্বীকৃতি দিয়েছে।
একক কোনো নেতৃত্ব ছাড়া সমন্বয় কমিটি দিয়ে তারা সারাদেশে আন্দোলন পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্ব, ক্ষমতা, পরিচিতি কিংবা অর্থের প্রতি লোভ নেই। তারা লড়ছে ন্যায্যতার ভিত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কোনো ভায়োলেন্ট চেহারা দেখা যায়নি। আধুনিক বা মধ্যযুগীয় কোনো অস্ত্র তারা ব্যবহার করেনি। যখন ভয়ংকরভাবে আক্রান্ত হয়েছে তখন আত্মরক্ষার জন্য ইটের টুকরা আর লাঠি ব্যবহার করেছে।
নিজ বুদ্ধিতে আন্দোলন পরিচালনা করে যাচ্ছে। এখানে দৃশ্যমান কোনো বহিঃশক্তির সম্পৃক্ততা দেখা যায়নি।
আধুনিক ও স্মার্ট চিন্তার অধিকারী তারা। হরতাল যখন আমাদের কাছে খেলো হয়ে গেছে তখন তারা 'হরতাল' শব্দ এড়িয়ে 'কমপ্লিট শাটডাউন' কথাটি ব্যবহার করেছে। তার আগে ব্যবহার করেছে 'বাংলা ব্লকেড'। হিউমারাস যথেষ্ট।
বহুদিন কোনো শক্তি যে ভয়ালত্রাসের কেশাগ্রস্পর্শ করতে পারেনি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা তাদের মোকাবিলা করেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাহসের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তাদের বলেছে, এখন যাও।
লাখোলাখো ছেলেমেয়ে নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে চলেছে। যেন ভুল করলে একসঙ্গে ভুল করব, সফল হলে একসঙ্গে। তারা সহিংসতা পরিহার করে সমঝোতার পথে এগিয়েছে।
তাদের পক্ষ হয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়ে। না রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, না সুশীল সমাজ। কেউ নয়। সকলে দূর থেকে দেখেছে তারা কতদূর যেতে পারে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলছে নিজ আস্থায়।
তারা আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছে। সোস্যাল মিডিয়াতে এমন অনেক পোস্ট দেখা যাচ্ছে, কারও থাকার সমস্যা থাকলে জায়গা দেবে, কারও আইনগত সহযোগিতা লাগলে তাদের পক্ষে লড়বে, চিকিৎসা দেবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ-বিজিবির চোখে চোখ রেখে নিজ অধিকারের প্রশ্ন তুলে আর্গুমেন্ট করতে পারছে।
তাদের স্খলনের নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রচুর গুজব, বিভ্রান্তি, উত্তেজনা ছড়িয়ে জল ঘোলা করে স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা চলছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা স্থির অবিচল। তারা জানে তাদের কোথায় গিয়ে থামতে হবে।
আমরা অনেকেই তরুণ প্রজন্ম নিয়ে হতাশ বাক্য উচ্চারণ করেছি, তরুণরা আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তারা দেশীয় রাজনীতির ওপরে নয়, ভরসা রাখে নিজেদের সততার ওপর। তারা জানে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ।
তরুণদের কেবল প্রয়োজন দেশের প্রতি বিশ্বাস রাখা। যে বিশ্বাস তৈরি করে দেবে এদেশের জনগণ। সকলে তরুণদের পাশে থাকলে, তারা নির্মাণ করবে নতুন বাংলাদেশ। তারা রিফর্ম করবে দেশের রাজনীতি। মেরামত করবে অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতির ফাঁকফোকর। মানুষ বাঁচবে মর্যাদা নিয়ে।
