ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের জন্য একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে অঞ্চলটির দুই রাজনৈতিক পক্ষ হামাস ও ফাতাহ। যুদ্ধ-পরবর্তী জোট সরকার গঠনেও একমত হয়েছে তারা।
ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন ও গণহত্যার মধ্যে চীনের মধ্যস্থতায় মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বেইজিংয়ে গোষ্ঠী দুটির নেতারা ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। খবর আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন দিনের জোর আলোচনার পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসে এ চুক্তিতে সম্মত হয় হামাস ও ফাতাহ। সব মিলিয়ে ১৪টি ফিলিস্তিনি পক্ষ বৈঠক শেষে ‘বেইজিং ঘোষণা’য় স্বাক্ষর করে।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেন, যুদ্ধোত্তর গাজার নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করতে হামাস ও ফাতাহ উভয়ই একটি ‘অন্তর্বর্তী জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গড়ার কাজ শুরু করেছে।
হামাস ও ফাতাহ’র পাশাপাশি ফিলিস্তিনের আরও ১২টি গোষ্ঠী এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা আবু মুসা মারজুক বলেন, আজ আমরা একটি ঐক্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি এবং জাতীয় ঐক্যই এই যাত্রা শেষ করার একমাত্র পথ।
এছাড়া টেলিগ্রামের এক পোস্টে হামাসের মুখপাত্র হোসাম বদরান বলেন, এই চুক্তিটি ‘ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্য অর্জনের পথে একটি অতিরিক্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।’ তিনি বলেন, ‘এই গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধের সমাপ্তির সাথে সম্পর্কিত ফিলিস্তিনি দাবির ব্যাপারে একমত হয়েছে।’
ফিলিস্তিনে নানা বিষয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দিক থেকে ফাতাহ ও হামাসের অবস্থান বেশ আলাদা। ২০০৭ সালে হামাস ও ফাতাহের মধ্যে সংকট শুরু হয়। সে সময় নির্বাচনে জেতার পর থেকে পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ করছে ফাতাহ। অন্যদিকে গাজা রয়েছে হামাসের নিয়ন্ত্রণে।
