৬ প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতি বেশি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৮ এএম

গাজীপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে ডাকা আন্দোলনের সুযোগে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম গাজীপুরের ছয়টি স্থাপনায় ৫১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এ ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকায় নাশকতাকারীরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, হামলাকারীরা চান্দনা চৌরাস্তায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তিনটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তারা পাঁচ টনের চারটি ট্রাক, হাইড্রোলিক হ্যামার, বিআরটি প্রজেক্টের অফিস গেট, বিল্ডিং ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে। যাতে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

বিআরটি প্রজেক্টের ২৫টি এসক্যালেটর, একটি লিফট, দুই হাজার বর্গমিটার এসএস রেলিং, একটি এক্সকাভেটর, ৩ হাজার কেজি এমএসই ওয়াল প্যানেল ফর্ম ওয়ার্ক, ছয়টি ইলেকট্রিক হ্যামার, চারটি ওয়েল্ডিং মেশিন, দুটি রোড কাটিং মেশিন, ৩৬০ মিটার ফেন্সিং ও প্লাস্টিক ট্রাফিক ব্যারিয়ার, সাতটি স্টেশনে জেনারেটর, পানির লাইন ও ইউলিটি সংযোগ এবং একটি প্রকল্প সাইট অফিসের ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা। তবে বিআরটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ দাবি করেন তাদের প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া নাশকতাকারীরা টঙ্গীতে ডেসকোর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সাতটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, উপ-কেন্দ্রের অফিস ভবন, ১০টি কম্পিউটার, সাতটি প্রিন্টার, এসি কমপ্রেসারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সামগ্রী ব্যাপক ভাঙচুর করে তিন কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

হামলাকারীরা বেক্সিমকো ফার্মার ভেতরে চারটি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ছয়টি সিসি ক্যামেরা, ছয়টি কাভার্ড ভ্যান, দুটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর ও বিল্ডিংয়ের ক্ষতিসহ মোট ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পাঁচটি পুলিশ বক্সে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৯টি গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা সিটির জোন-১-এর ভবনের দরজা, জানালা ভাঙচুর এবং নিচতলার তিনটি কক্ষ পুড়িয়ে দিয়েছে। আঞ্চলিক কার্যালয় জোন-৩ এর ভবনের দরজা জানালাও ভাঙচুর করে।

এদিকে ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের এমডি ড. মো. মনিরুজ্জামান, বিআরটির প্রকল্প পরিচালক এএসএম ইলিয়াস শাহ, সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক মহিরুল ইসলাম খান উত্তরা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নাশকতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণাধীন স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে নগরীর বড়বাড়ি এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রকল্পের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ব্রিফিং দেন। ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের এমডি ড. মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন প্রাথমিক হিসেবে তাদের প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের হিসেবে  ছয়টি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৫১ কোটি ৪৯ লাখ টাকার ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে। এ পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত