আশানিরাশার দোলাচলে কমলা

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:৫২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রার্থিতার দৌড়ে সামনে চলে এসেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। এখনো তার প্রার্থিতার বিষয়টি দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা না হলেও বাইডেনই তাকে প্রার্থী হিসেবে নিজের সেরা পছন্দ বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া বাকি যারা আলোচনায় আছেন, তাদের কারওই ডেলিগেটের সমর্থন কমলার কাছাকাছি নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে দলটির তহবিল দাতাদের সমর্থন। বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর কমলার প্রচার শিবিরের জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার জনমত জরিপগুলোয় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জোর টক্কর দিচ্ছেন তিনি। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে গেছেন কমলা। গত সোম ও মঙ্গলবার এই জরিপ চালানো হয়। যেখানে কমলার প্রতি ৪৪ শতাংশ এবং ট্রাম্পের প্রতি ৪২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ এক সপ্তাহ আগেই বাইডেন ট্রাম্পের চেয়ে দুই পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এখনই আশা করছেন কমলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জিতে সবাইকে তাক লাগানো কারিশমা দেখাবেন। তবে কমলার দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মনে করেন, হ্যারিস রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে পরাজিত করতে পারবেন না। আর এ কারণেই তিনি কমলা হ্যারিসকে সমর্থনও দেননি বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। গত বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তার তিন দিন পর নির্বাচনী দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন বাইডেন। সেই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার প্রতি নিজের সমর্থন জানিয়ে দেন তিনি। বাইডেন সরে যাওয়ার পর ডেমোক্রেটিক পার্টির অধিকাংশ ডেলিগেট (প্রতিনিধি) সোমবার কমলার প্রতি তাদের সমর্থন জানান বলে এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে ১৫ ও ১৬ জুলাই রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে কমলা এবং ট্রাম্পের প্রতি ৪৪ শতাংশ ভোটার জনসমর্থন জানিয়েছিলেন। তার আগে ১ ও ২ জুলাইয়ের জরিপে ট্রাম্প কমলার চেয়ে মাত্র ১ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়েছিলেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ মনে করেন, ৫৯ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিকভাবে দক্ষ ও সক্ষম। যেখানে ৪৯ শতাংশ মনে করেন, ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্পের এই সক্ষমতা আছে। গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রথম টেলিভিশন বিতর্কে খুবই নিষ্প্রভ ছিলেন ৮১ বছর বয়সী বাইডেন। ওই বিতর্কের পর থেকেই বাইডেনের বয়স এবং তার মানসিক সক্ষমতা নিয়ে জোরেশোরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যে চাপে তাকে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়াতে হয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির ৮০ শতাংশ ভোটার বলেছিলেন, তারা বাইডেনকে সমর্থন করেন। কমলার বেলায় সেই সমর্থন বেড়ে ৯১ শতাংশ হয়েছে। বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর কমলা এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী শিবির থেকে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার দাবিও করা হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে নিজের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে রীতিমতো আক্রমণ করে বক্তব্য দেন কমলা। কমলা হ্যারিস নির্বাচনী লড়াইয়ে উতরে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি। তাকে নিয়ে বড় আশা দেখছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। যেমন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, অত্যন্ত গর্ব ও সীমাহীন আশা নিয়ে তিনি কমলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।  ডেমোক্রেটিক পার্টির চাঁদাদাতারাও যে কমলাকে নিয়ে আশাবাদী, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে নির্বাচনী প্রচার তহবিলে তাদের দেওয়া অর্থের পরিমাণ থেকে। বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর কমলার প্রচার শিবিরের জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন তারা। ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট পদের লড়াইয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে ডলার যোগের মধ্য দিয়েই। এ ছাড়া কমলা চূড়ান্ত প্রার্থী হলে বাইডেনের বয়সকে যেভাবে নির্বাচনী প্রচারের অস্ত্র বানিয়েছিল রিপাবলিকানরা, ঠিক উল্টো হবে ট্রাম্পের বয়স নিয়ে। নির্বাচিত হয়ে চার বছর মেয়াদের পুরোটা ক্ষমতা থাকলে ২০২৮ সালে ট্রাম্পের বয়স দাঁড়াবে ৮২ বছর।  কমলার বয়স এখন ৫৯ বছর। সে হিসেবে ট্রাম্পের চেয়ে তিনি যোগ্য বলেই বিবেচিত হবেন। তবে বারাক ওবামার মতো নেতার সমর্থন না পেলে ভোটের বৈতরণী পার হওয়াটা সহজ হবে না কমলার জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত