মানিকগঞ্জে দুগ্ধ খামারিদের কারফিউ ৫ দিনে ২৯৮ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। মানিকগঞ্জে স্বাভাবিক সময়ে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কারফিউর কারণে যানবাহন বন্ধ থাকে। এই ৫ দিন খামারিরা গড়ে দুধ বিক্রি করেন ৩০-৩৫ টাকা লিটার। এ কদিনে উৎপাদন খরচও ওঠেনি দাবি ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের।
মানিকগঞ্জের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জে দুগ্ধ খামারের সংখ্যা ৬ হাজার ১৩৩টি। এ ছাড়া কৃষকদের বাড়িসহ মোট গাভীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮১৫টি। জেলায় দুধ উৎপাদন হয় প্রতিদিন ২ কোটি ৯৮ লাখ মে. টন। আর জেলায় চাহিদা রয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ মে. টন। উদ্ধৃতি থাকে ৬৭ লাখ মে. টন। জেলার দরগ্রাম বাজারের দুগ্ধ ব্যবসায়ী ভীম ঘোষ বলেন, আশপাশের বাজারে স্বাভাবিক সময়ে ৫০-৬০ টাকা দরে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার লিটারে দুধ কিনে থাকি। কিন্তু গেল ৫ দিন যানবাহন চলাচল না করায় কোনো দুধ কিনিনি। ওই সময় গড়ে ৩০-৩৫ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি হয়েছে। কোনো বাজারে এর চেয়ে কম গেছে।
দুগ্ধ ব্যবসায়ী ভীম ঘোষের দরদামের তথ্য অনুযায়ী জেলায় শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন লিটারে ২০ টাকা কম বিক্রি করলে ৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, যা ৫ দিনে হয় ২৯৮ কোটি টাকা।
খলিবাদ গ্রামের খামারি পাখি বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন ১৮ কেজি দুধ হয়। গেল ৫ দিন আমি ৩৫ টাকা করে বিক্রি করেছি। গো-খাদ্যের যে দাম বৃদ্ধি হয়েছে। তাতে কারফিউর সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠেনি।
গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী আপেল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়িতেই ২-৪টি গরু লালন-পালন করে। এ বাজারে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার দুধ বিক্রি হয়। যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার সময় কোনো ব্যাপারী দুধ কেনেনি। নামমাত্র মূল্যে দুধ বিক্রি করেছে চাষিরা।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। বাজারে দুধ বিক্রি না করতে পারলে, দুগ্ধ জাতীয় খাবার তৈরি করে বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়ে থাকি।
