রাজশাহীতে নিত্যনতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করা হলেও বেশির ভাগই মানছে না ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা। ফলে ভবনগুলোতে অগ্নিঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এদিকে রাজশাহীতে বহুতল ভবনের আগুন নেভাতে দমকল বিভাগে একটি টিটিএল গাড়ি আনা হলেও তা কাজে আসছে না। কারণ, রাজশাহী শহরের বেশিরভাগ রাস্তার ওপরে তারের জঞ্জাল থাকায় গাড়িটি চলাচল করতে পারছে না।
রাজশাহীতে গত কয়েক বছরে ব্যাপকহারে বেড়েছে বহুতল ভবন (সাত তলার ওপরে)। শুরুর দিকে হাতেগোনা কয়েকটা বহুতল ভবন থাকলেও গত কয়েক বছরে আবাসন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এতে কয়েকগুণ বেড়ে বর্তমানে দুই শতাধিক বহুতল ভবন এই শহরে। অথচ শহরের বহুতল ভবনগুলোতে আগুন নেভানোর জন্য রাখা হচ্ছে না পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ফলে ভবনগুলোতে আগুন লাগার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী নগরীতে ২০০৯ সাল থেকে বহুতল ভবন নির্মাণ জোরেশোরে শুরু হয়। এখন প্রতিটি এলাকাতেই বহুতল ভবনের দেখা মেলে। সাহেববাজার, আলুপট্টির মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, সাগরপাড়া, উপশহর, বর্ণালীর মোড়, আমবাগান, তেরোখাদিয়া, সিপাইপাড়া, কাজীহাটা, পদ্মা আবাসিক, তালাইমারি, বিনোদপুর এলাকায় বহুতল ভবনের সংখ্যা বেশি।
আরডিএ সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাজশাহী নগরীতে মোট ৬০০টি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে একতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত ৫৬৫টি এবং ছয়ের অধিক তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩৫টি। ২০১৪ সালে অনুমোদন দেওয়া হয় ৫০২টি। এর মধ্যে ৪৮৬টি এক থেকে পাঁচতলা এবং ছয়ের অধিক তলা বিশিষ্ট ভবন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩৫টি। ২০১৫ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টি এক থেকে পাঁচতলা এবং ছয়ের অধিক তলার ভবন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩৩টি।
এদিকে এতসব ভবন বাড়লেও এগুলোতে আগুন নেভানোর জন্য নেই কারও মাথাব্যথা। বেশির ভাগ ভবন মালিকই মানেন না ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনা। এছাড়া আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের যে উপকরণ রয়েছে, তাতে ২২ তলা পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব। কিন্তু এখানকার এলটিটি গাড়িটি শহরের বেশিরভাগ এলাকাতেই প্রবেশ করতে পারে না।
ফায়ার সার্ভিস রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রথম ২০০৫ সালে ছয় হাজার ৫০০ লিটার পানিবাহী গাড়ি যোগ হয়। এরপর ২০১০ সালে যুক্ত হয় এগারো হাজার লিটার বিশেষ পানিবাহী গাড়ি। সেই বছরই যুক্ত হয় ৪৪০০ ফোস টেন্ডার। ২০১১ সালে যুক্ত হয় ১৮০০ রেসকিউ টেন্ডার। সবশেষ ২০১৩ সালে যুক্ত হয় চার হাজার ৮০০ লিটার পানিবাহী গাড়ি।
রাজশাহী বিভাগীয় ফায়ার সর্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সামা বলেন, ‘বহুতল ভবন মালিকদের নির্দেশনা মানার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এ ব্যাপারে ভবন মালিকরা উদাসীন। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ভবন মালিকদের নোটিসও দেওয়া হচ্ছে।
গত তিন মাসে প্রায় ২০০ জনকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য আরডিএ, সিটি করপোরেশন এবং ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু সামা আরও বলেন, ‘আমাদের ২২ তলা পর্যন্ত ভবনের আগুন নেভানোর সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এখানকার বহুতল ভবনের আগুন নেভানোর জন্য যে টিটিএল গাড়িটি রয়েছে, সেটি রাজশাহীর সব রাস্তায় চলাচল করতে পারছে না। এখানকার রাস্তায় অনেক নিচুতে তার ঝুলছে। এগুলো সরানোর জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সমাধান হয়নি। এখন যেসব রাস্তায় তারের জঞ্জাল নেই, সেগুলোতে এই গাড়ি চলাচল করছে।’
