সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক। তার নাম জাহিদুল করিম। তিনি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। জাহিদুল করিম গতকাল তার নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে অব্যাহতিপত্রটি পোস্ট করার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তার মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানতে চাইলে তিনি তা নিশ্চিত করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল করিম ২০১০ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন।
পদত্যাগপত্রে জাহিদুল করিম উল্লেখ করেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদাসীনতা এবং শিক্ষকদের দলীয় মনোভাব আমাকে অনেক ব্যথিত করেছে। আমি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছি এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বদা পাশে থেকেছি। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের একটি ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীকে মূল্যবান জীবন দিতে হয়েছে। সরকার চাইলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিতে পারত, তাহলে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না। যেসব শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তাদের নিয়ে পরিবারগুলোর অনেক স্বপ্ন ছিল। সন্তান হারানোর বেদনায় তারা আজ দিশাহারা।’
অব্যাহতিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে হত্যা ও কিছুসংখ্যক প্রতিবাদী শিক্ষককে রক্তাক্ত করার মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। এত হত্যাকাণ্ড দেখেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকদের নির্লিপ্ততা আমাকে ব্যথিত করছে। বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজের মূল্যবোধ ও নৈতিকতাবোধকে জাগ্রত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছি।’
অব্যাহতিপত্রের ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হাসানকে মোবাইল ফোনে ফোন করা হলে তিনি লাইন কেটে দেন।
